45076

সৌদি আরবে শান্তি আলোচনায় অংশ নেবেন শীর্ষ মার্কিন উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন ইস্যুতে সৌদি আরবে আসন্ন শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভ্যান। আগামী সপ্তাহে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইউক্রেন ও দেশটির মিত্ররা যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভের প্রস্তাবের প্রতি বাকি বিশ্বের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে এই সম্মেলনে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

আলোচনা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, এই আলোচনার প্রাথমিক লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে ব্রাজিল ও ভারতের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোর অবস্থান পাল্টানো।

ads

সম্মেলনটি আহ্বান করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রত্যাশা স্বাগতিক দেশ হিসেবে সৌদি আরব থাকায় এতে চীন আকৃষ্ট হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেইজিং কোনও প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এই শান্তি সম্মেলন আয়োজনের খবর প্রথম প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, সৌদি আরব ও ইউক্রেন ৩০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মিসর, মেক্সিকো, চিলি ও জাম্বিয়া।

ads

দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে, জেদ্দাতে শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদি সালিভ্যান সশরীরে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তাহলে এটি হবে গত দশ দিনের ভেতরে লোহিত সাগরের বন্দর নগরীতে তার দ্বিতীয় সফর। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং অপর সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা আশা করছি অংশগ্রহণকারীরা শান্তির নীতি এবং কীভাবে ইউক্রেনে ন্যায্য ও দীর্ঘ মেয়াদি শান্তি অর্জন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে।

রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিরে মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, অবশ্যই রাশিয়া সম্মেলনে নজর রাখবে। কী লক্ষ্য নির্ধারিত হচ্ছে এবং কী আলোচনা হবে তা আমাদের বুঝতে হবে। শান্তিপূর্ণ যেকোনও সমাধানের চেষ্টা ইতিবাচক মূল্যায়নের দাবি রাখে।

তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেছেন, কিয়েভের সঙ্গে শান্তি আলোচনার মতো কোনও ভিত্তি নেই, মস্কোর এই অবস্থান অটল রয়েছে।

পেসকভ আরও বলেছেন, কিয়েভের শাসকরা শান্তি চায় না, তারা শান্তি চাইতে পারে না যখন রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের সমন্বিত লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ অ্যান্ড্রি ইয়ারমাক বলেছেন, ইউক্রেনের শান্তি স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে। এখানে ১০টি মৌলিক পয়েন্ট রয়েছে। এগুলোর বাস্তবায়ন কেবল ইউক্রেনের জন্য শান্তি নিশ্চিত করবে না, বরং বিশ্বে ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলার পরিস্থিতিও তৈরি করবে।

এর আগে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধার, রুশ সেনা প্রত্যাহার, বন্দিমুক্তি, আগ্রাসনের জন্য দায়ীদের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা গ্যারান্টিসহ ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল কিয়েভ।

ইয়ারমাক বলেন, ‘ইউক্রেনের শান্তি পরিকল্পনাকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধ আমাদের মাটিতেই সংঘটিত হচ্ছে।’

ad

পাঠকের মতামত