41254

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে জোর শলৎস-মোদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহ—এ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারত সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শলৎসের সঙ্গে মোদির বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ছাড়াও উঠেছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়। জোর দেওয়া হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপরে।

দুই দিনের ভারত সফরে শনিবারই দিল্লি এসে পৌঁছেছেন জার্মান রাষ্ট্রপ্রধান। তাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। মোদির সঙ্গে শলৎসের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।

ads

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী জানিয়েছেন, ভারত-জার্মানির কৌশগত অংশীদারত্ব এই সফরের ফলে আরো সমৃদ্ধ হবে। এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন মোদি এবং শলৎস।

শলৎসের এই সফর এমন একটা সময় হচ্ছে যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্সসহ পশ্চিমের বড় অর্থনীতিগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর ওপরও রাশিয়াকে এড়িয়ে চলার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেও ভারত নিজের দেশের অর্থনীতির অঙ্কেই পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞা বা চাপকে অস্বীকার করে ‘পুরনো বন্ধু’ রাশিয়ার থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শলৎসের সফরে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ads

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারতের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি শলৎসকে ব্যাখ্যা করেন মোদি। জার্মানি যে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে ‘মাথা ঘামাবে না’, সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন ভারতে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ফিলিপ অ্যাকারম্যান। এদিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে, যা ভারতকে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তি দিয়েছে। জার্মানির মতো শক্তিধর অর্থনীতির দেশ এবং পশ্চিমা জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারকে এই প্রশ্নে একরকম ‘পাশে পাওয়ায়’ খুশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিনের বৈঠকে উঠেছে চিনের বিষয়টিও। দীর্ঘদিন ধরেই চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ভারতের টানাপড়েন বেড়েছে। এ অবস্থায় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনকে চাপে ফেলতে ভারতের সঙ্গে অক্ষ তৈরি করতে আগ্রহী জার্মানি। যা নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিয়েছে ভারতকে। উঠেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গও। ভারত যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী, সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ad

পাঠকের মতামত