স্মরণে খসরু ভাই: ডা. আতাউর রহমান জসিম
ডেস্ক নিউজঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা এড. আবদুল মতিন খসরু এমপি মহোদয়ের বহু পরিচয় থাকলেও তিনি আমার কাছে ছিলেন প্রিয় খসরু ভাই।
মনে পড়ে ১৯৮৬ সাল থেকে খসরু ভাইয়ের সাথে সামান্য পরিচয় থাকলেও ঘনিষ্ঠতা হয় ১৯৯১ সাল থেকে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামের একটি নির্বাচনী জনসেবায় হঠাৎ করেই মাইকে নির্বাচনী জনসভা পরিচালনা করার জন্য আমাকে আহ্বান করা হয়। বলা যায় সেই থেকে গত ৩০ বছর সবগুলো সংসদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে খসরু ভাইয়ের পাশে থাকার সুযোগ হয়েছিল। ৯১র নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর আমাকে এমপি হোষ্টেলে আমন্ত্রণ জানান ও সংসদে উনার ভাষণ শোনার সুযোগ করে দিলে প্রথম সংসদ ভবনে অধিবেশন দেখার সুযোগ পাই এবং পরবর্তীতে অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ ভবনে গেলে একাধিক বার অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দেন, এর মাঝে একবার মাননীয় স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর কাছে বসে সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ হয়েছিল।
খসরু ভাই ছিলেন একজন বিনয়ী ও সজ্জন মানুষ। চান্দলা কে বি হাইস্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উদ্যোগে ১৯৯১ সালে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে খসরু ভাইকে অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতে উনার কুমিল্লাস্থ উকিল পাড়া বাসায় গেলে তিনি দাওয়াত সানন্দে গ্রহণ করে আর কে কে থাকবেন জানালে ও সাবেক কৃষি উপদেষ্টা আজীজ উল হক কে প্রধান অতিথি করার আমাদের আগ্রহ বুঝতে পেরে তিনি বলেন “অবশ্যই আজীজ উল হক প্রধান অতিথি হবেন, আমি এলাকার এমপি, আমাকে অতিথি কেন, আমি এরকম একটি মহতী উদ্যোগ যেখানে চান্দলার হাজার-হাজার প্রাক্তন ছাত্র ও গুনীজনরা থাকবেন, আমি সেখানে এমনিতেই থাকব।”
তেমনিভাবে ২০১১ সালে চান্দলা কে বি হাইস্কুলের শতবর্ষ পুর্তি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক কে প্রধান অতিথি ও উনাকে বিশেষ অতিথি করলে এলাকার নেতাকর্মীদের একাংশ উনি সাবেক মন্ত্রী, সংসদীয় কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও প্রধান অতিথি না করার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করলেও খসরু ভাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমাদের ও চান্দলার গুণীজনদের নিয়ে স্মৃতি-চারণ করেন ও ভি সি স্যারের ভুয়সী প্রশংসা করেন ও উনার এলাকায় আগমনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি ভোটের রাজনীতির মাঠে ছিলেন দক্ষ খেলোয়ার, আওয়ামীলীগের শীর্ষ ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদে অভিজ্ঞ সাংসদ, মন্ত্রীসভার সফল আইনমন্ত্রী, সুপ্রীমকোর্টের জাদরেল আইনজীবী। বঙ্গবন্ধুর কর্মী ও শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে দলের প্রতি যেমন ছিলেন নিবেদিত, তেমনি নির্বাচনোত্তর সময়ে এমপি হিসেবে ছিলেন সবার আস্থাভাজন ও দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের আশ্রয়-ভরসার কেন্দ্রে। মানুষকে ভালবাসতেন মনপ্রাণ দিয়ে, চিন্তাচেতনায় ছিলেন আধুনিক, মনেপ্রানে বাঙালি, সবকিছু ছাপিয়েএকজন খাঁটি মুসলমান। যার জন্য তাঁর মৃত্যুর পর ধার্মিক, অধার্মিক, মুসলিম, অমুসলিম, সকল ধর্ম ও শ্রেণিপেশার মানুষ শোক প্রকাশের সাথে প্রার্থনা করেছে অন্তর থেকে। বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া ছাপিয়ে বাংলার আকাশ বাতাস সেদিন শোকে বিহ্বল ছিল, যা আজো বিদ্যমান।
তিনি ছিলেন একজন মানবিক, হাস্যরসবোধ সম্পন্ন জনবান্ধব ও বিশেষ করে কর্মীবান্ধব নেতা। আমাদের গ্রামের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে চান্দলা স্কুল মাঠে দেখা হলে আমার নতুন বাড়িতে চায়ের আমন্ত্রণ জানালে উনি স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে বলেন, ডা. জসীমের বাড়িতে এভাবে যাবো না, সবাই মিলে যাবো, নতুন বাড়িতে পার্টি দিতে হবে। খেলা শেষে আসেন, চায়ের টেবিলে আমার বন্ধু প্রিন্সিপাল সৌরভ সহ আমাদের সবার সাথে গল্পে মেতে উঠেন, আমার প্রতিবেশীদের একজন ইতালি প্রবাসী সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা মরহুম মোশতাকের কথা জেনে আবেগ তাড়িত হয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেদের সাথে কথা বলতে চান ও দীর্ঘক্ষন মোশতাকের পরিবারের খোঁজ খবর নেন, তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন ও দলের প্রতি তার অবদান তুলে ধরেন।
রাতে সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তারিকুল ইসলামের মেয়ের বিয়েতে অংশ গ্রহণের জন্য চান্দলা করিমপুরের একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য অনুরোধ করলে তা পরের দিন আসবেন বলে বিদায় নেন। বিদায় বেলা আবার সবাইকে উদ্যেশ্য করে হাসি দিয়ে বলেন আজকের আসা নন রেকর্ডেট, আজকের চা পর্ব হিসাবে আসবেনা ! সবাই, মিলে আবার আসবেন, হৈচৈ আড্ডা ও খাওয়াদাওয়া হবে। আমার নতুন বাড়িতে সেই প্রথম ও কে জানতো, সেটাই জীবনের শেষ আসা হবে! একসাথে বিদায় নিয়ে আমি ও বন্ধু প্রিন্সিপাল সৌরভ যার যার বাসায় গিয়ে পরিবার সহ সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ের বিয়েতে কোটবাড়ি ম্যাজিক প্যারাডাইসে খসরু ভাই সহ অতিথিদের সাথে আবার মিলিত হই। সেদিন খসরু ভাই আমাদের সবার সাথে বিশেষ করে আমার স্ত্রী বার্ডের উপ-পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান ও আমাদের ছোট মেয়ে শৈলী ও সৌরভের ছেলের সাথে গল্প ও হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেন, বরকনে সহ আমাদের সকলের সাথে প্রচুর ছবি তুলেন এবং বলেন এগুলোই স্মৃতি হয়ে থাকবে। আজ যখন লিখছি চোখভিজে ঝাপসা হয়ে আসছে, তখন কী জানতাম, আমার নতুন বাড়িতে ও বিয়ের অনুষ্ঠানে খসরু ভাইয়ের এই শেষ স্মৃতি আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে ও আজীবন কাঁদাবে।
মায়ের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অসীম শ্রদ্ধা যা সচরাচর বয়স্ক ছেলে মেয়ে ও বৃদ্ধ মা বাবার মাঝে দেখা যায় না। খসরু ভাইয়ের আম্মা আমার দীর্ঘকালের ডায়াবেটিস রুগী ছিলেন।খালাম্মা অসুস্থ হলে উনি শত ব্যস্ততার মাঝেও দেখতে আসতেন, বা কাউকে দিয়ে আমার কাছে পাঠাতেন। খুব অসুস্থ হয়ে চলাচলে অক্ষম হলে আমাকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দেখতে যেতে বলতেন বা অন্যকোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজনে সাথে নিতে বলতেন। বহুবার ডা. আব্দুল্লাহ আল হাসান, ডা. লিটন রায়, ডা. গোলাম মোস্তফা ও অন্যদের নিয়ে খসরু ভাই য়ের কুমিল্লার বাড়িতে খালাম্মাকে দেখতে গিয়েছি। সবসময়ই খসরু ভাই আমাদের সাথে থাকতেন। একবার খালাম্মা কে দেখতে গেলে সার্কিট হাউসে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের রেখে আমার গাড়িতে উঠে রানীর দীঘির পাড় বোনের বাসায় আসেন,বিদায়বেলা খালাম্মার হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন যা প্রয়োজন খরচ করতে এবং বিদায়বেলা ছোট্ট শিশুর মত পা ধরে মায়ের দোয়া নিতেন, খালাম্মাও প্রাণভরে মাথায় হাত ভুলিয়ে দোয়া করতেন। খসরু ভাইয়ের সাথে আমার জন্যও দোয়া করতেন, আমাকে “চান্দলার পোলা” ( বাড়ি চান্দলা তাই) বলে ডাকতেন। এমনকি খালাম্মাকে দেখার পর নতুন কোন ঔষধ লিখলে তাৎক্ষণিক কেনার ব্যবস্থা করে দিতেও ভুল করতেন না।
তিনি গতানুগতিকতার বাইরে ভাবতে পারতেন (out side the box) ; ছিলেন সৃজনশীল ও সামাজিক কর্মযজ্ঞের লিডার। গত ১৯ মে ২০১৯ কুমিল্লা ক্লাবে রাতে ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে একটি জনসচেতনতা মূলক প্রোগ্রামে ও একইদিন বিকালে বুড়িচং উপজেলা অডিটোরিয়ামে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার নবনির্বাচিত দুইজন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। কিন্তু প্রচন্ড ধুলাঝড়-বৃষ্টি থাকায় ঢাকা থেকে মেঘনা পর্যন্ত এসে ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সন্ধ্যার পূর্বে উনাকে ফোনে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার, বৃষ্টি থাকলেও ঝড়ের তান্ডব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে জানালে বলেন আমাদের এমন মহতী উদ্যোগে থাকতে পারছেন না বলে অশান্তিতে আছেন! আমি এখনই রওনা দিলে আসতে পারবেন জানালে হেসে বলেন “এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পৌঁছাতে পারব তো, রাস্তায় মরে যাবো না তো! ” আমাদের অবাক করে দিয়ে ঠিক ই বৈরি আবহাওয়া সত্বেও কুমিল্লা ক্লাবে ডায়াবেটিস সচেতনতার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দুই লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে ও আমাদের নিজস্ব ফান্ডের অর্থ ব্যয় করে আপাতত একটি ভবন তৈরি করে হাসপাতালের কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেন ও পরবর্তিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন সরকারি ভাবে করার প্রতিশ্রুতি দেন।খসরু ভাইয়ের দুই লক্ষ টাকার সাথে গত ১১ বছরের হাসপাতাল ফান্ডে জমাকৃত টাকা দিয়ে একটি ভবন দ্রুত নির্মাণ করি, যেখানে বর্তমানে চিকিৎসা সেবা চলছে। উল্লেখ্য হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুর দিকে যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য আমি ৫০ হাজার টাকা ও আজীবন সদস্যরা ৫০০০ টাকা দেন। পরবর্তীতে এড. আ.হ.ম তাইফুর আলম, ডা. গোলাম মোস্তফা, ডা. কামাল, ডা. দিলরুবা ও ডা. শামীমা ৫০০০০ টাকা সমিতির ফান্ডে দান করেন।
তিনি আমাদের কে স্নেহ-ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মানও করতেন। বার কাউন্সিল নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার জন্য কুমিল্লা বার্ডে রাত্রি যাপন শেষে ব্রেকফাস্টের জন্য আমাকে ও আমার স্ত্রী বার্ডের উপ-পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান কে দেশ সেরা বিজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রুকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, বর্তমান পশুসম্পদ মন্ত্রী এড. শ.ম রেজাউল করিম ও অন্যান্যদের সাথে নাস্তার টেবিলে উনার আম্মা ও উনার চিকিৎসক ও বিএমএ নেতা এবং উনার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজের সাথী হিসেবে অত্যন্ত গর্বের সাথে আমাকে ও আমার স্ত্রী কে পরিচয় করিয়ে দেন। যখনই দেখা হতো আমাকে উনার মায়ের চিকিৎসক ও মানবিক ডাক্তার হিসেবে আলাদা ভাবে উপস্থাপন করতেন। উনার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরীর আগ্রহে আমাকে চান্দলা কে বি হাইস্কুলের সভাপতির দায়িত্ব নিতে হয়, পরবর্তী তে স্কুল টি কলেজে উন্নীত হয় ও কারিগরি শাখা ও ডবল শিফট চালু হয়।
এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য আমার পরামর্শ নিতেন বা আমাকে দায়িত্ব দিতেন।
গত ত্রিশ বছরের নিবিড় সম্পর্ক মৃত্যুর মাধ্যমে ছিন্ন হলেও অন্তরে তিনি আমাদের হ্রদয়ে-মননে আছেন সর্বদা। কোভিড আক্রান্ত হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হলে ফোনে সকলের দোয়া চান, পরবর্তী তে আই সি ইউতে মরণাপন্ন হলে উনার সহকারী ও সিএমএইচের চিকিৎসকদের মাধ্যমে শারীরিক খোঁজ নিতাম। আশা নিরাশার দুদুল্যমানতায় আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে, আমাদের সকল চেষ্টা ও দোয়াকে ব্যর্থ করে অসীমের পানে মহান আল্লাহ’ র ডাকে সাড়া দিয়ে গত ১৪ এপ্রিল ১ম রোজা ও ১লা বৈশাখ, শুক্রবারে ইন্তেকাল করেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিওন)।
জীবনে যেমন খসরু ভাইয়ের পাশে ছিলাম তেমনি শেষ যাত্রায়ও উনার পাশে ছিলাম। ১৫ এপ্রিল বিকালে ওনার জানাযায় অংশ গ্রহণের জন্য বিষ্ণুপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে গোমতী নদীর দক্ষিণ পাড় দিয়ে এগিয়ে খসরু ভাইয়ের লাশবাহী এম্বুলেন্সটি ঢাকা থেকে পালপাড়া ব্রীজের কাছে দৃশ্যমান হলে বুকের ভিতরটা মোচর দিয়ে হুহুকরে চোখের জল বাধ ভেঙ্গে গড়িয়ে পড়ে। আমার গাড়ি স্লো করে লাশবাহী গাড়ি টি কে সামনে যেতে দেই। সারাজীবন তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, আজও তিনি সামনে, তবে মৃত। উনার জানাযার জন্য গাড়িটি বুড়িচং স্কুল মাঠের দিকে গেলে আমি ব্রাহ্মণপাড়া স্কুল মাঠে পৌঁছে অপেক্ষায় থাকি প্রিয় নেতার জন্য। আমরা অপেক্ষায় থাকতাম প্রিয় নেতা আমাদের মাঝে আসবেন অতিথি হিসেবে, তার উপস্থিতি আমাদের আলোড়িত করত, তার অবয়ব, বক্তব্য, উপদেশ নির্দেশ মানার জন্য আমরা উদগ্রীব থাকতাম,অপেক্ষায় থাকতাম ফুল নিয়ে বরণ করার জন্য। আজও তিনি এলেন তবে লাশবাহী গাড়িতে। ব্রাহ্মণপাড়াতে জানাযায় অংশ গ্রহণ করে কুমিল্লার বাসায় ফিরে আসি। সারা রাস্তা ভাবতে থাকি, একজন মানুষ কতটা সফল ও স্বার্থক হলে দলমতের উর্ধ্বে ওঠে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পায়! খসরু ভাই গত ৬০ বছর আমাদের সেবা করেছেন মনপ্রাণ দিয়ে, আমাদের এলাকা তথা বাংলাদেশের মানুষও তাঁকে ভালোবেসেছে সমস্ত হ্রদয় ও প্রাণ দিয়ে। বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া ছাড়িয়ে বাংলার আকাশ-বাতাসে সেদিন মানুষের কান্নার রোল উঠেছিল।
তিনি আমাদের মাঝে ভালোবাসা ও মায়া ছড়িয়েছেন, মহান আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা তিনি যেন পরকালে আল্লাহ’র মায়ার বন্ধনে ও ভালোবাসায় নিমজ্জিত থাকেন। শান্তি তে থাকুক আমার প্রিয় খসরু ভাই।











