32936

ভারতে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন বৃদ্ধি’ পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: ব্লিনকেন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ভারতে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন বৃদ্ধির’ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এমন সমালোচনা বিরল। সোমবার ওয়াশিংটনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল এখবর জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে কিছু উদ্বেগজনক ঘটনাপ্রবাহ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, এর মধ্যে রয়েছে সরকার, পুলিশ এবং কারা কর্মকর্তাদের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি।’

ads

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার রক্ষার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিফিংয়ে এই ইস্যুতে কোনও কথা বলেননি ভারতীয় পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কয়েকদিন পর ব্লিনকেন এই মন্তব্য করলেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের উদ্দেশে ওমর প্রশ্ন রেখেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করতে ওয়াশিংটন ‘এত অনিচ্ছুক’ কেন?

ads

এক কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে ইলহান ওমর জানতে চেয়েছিলেন, ‘মোদি প্রশাসন ভারতের মুসলিমদের ওপর কতটা অপরাধ করলে আমরা কিছু বলবো?’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিস্থিতিতে নজর রাখার এই বক্তব্য এমন সময় আসলো যখন ভারতে মুসলমান ধর্মালম্বীদের বিরুদ্ধে একাধিক নিপীড়নের ঘটনার কথা প্রকাশিত হয়েছে। এসব নিপীড়নের নিশানায় ছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা মেয়েরা, গরুর মাংস বিক্রেতা, মন্দিরের পাশে মুসলিম দোকানদার ও মুসলিম ট্যাক্সি চালক।

সোমবার মধ্যপ্রদেশ সরকার খারগোন এলাকায় মুসলিমদের মালিকানাধীন বাড়ি ও দোকান উচ্ছেদ করেছে। শহরে রাম নবমীর শোভাযাত্রায় সহিংসতার একদিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ শব্দ ও উসকানিমূলক গান বাজানো নিয়ে আপত্তি তুলে কিছু মানুষ শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েছে।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থেকে সমালোচনা

২০২১ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০ সালে বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার চর্চার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে ভারতের উদ্বেগজনক ঘটনার মধ্যে ‘বেআইনি ও নির্বিচার হত্যা, সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঢালাও গ্রেফতার ও আটক, বেসরকারি সংস্থার ওপর অত্যাধিক বিধিনিষেধ, নারী ও সংখ্যালঘুর ওপর সহিংসতা, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ’।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অভ্যন্তরীণ চর্চার অংশ এই প্রতিবেদন। তিনি বলেন, ‘আমরা এর অংশ নই। ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে উপযুক্ত বোঝাপড়া থাকা উচিত’।

ad

পাঠকের মতামত