27523

কক্সবাজারে নারীর মর্যাদা রক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নতিতে কোইকা-ইউএনএফপিএ চুক্তি

নিউজ ডেস্কঃ মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা বাংলাদেশে নারী ও মেয়েদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। যথাযথ মাসিক স্বাস্থ্যবিধি পণ্য কেনার অসুবিধা, স্কুল এবং অন্যান্য পাবলিক স্পেসে পর্যাপ্ত স্যানিটারি সুবিধার অভাব, সেইসঙ্গে ঋতুস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নিষিদ্ধতা এবং কলঙ্ক নারী ও মেয়েদের সমাজে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করে। কক্সবাজারের মতো বাংলাদেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলার মেয়েদের জন্য বিষয়টি কঠিন।

ঋতুস্রাব মেয়েদের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মানুষের মর্যাদার সঙ্গে অন্তর্নিহিতভাবে এটি সম্পর্কিত। মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি পরিচালনায় দরকার নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্মানের সুবিধা।

ads

কক্সবাজার জেলার নারী ও মেয়েদের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করতে কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা) জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অংশীদারত্বে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর মিসেস ইয়াংহাহ দহ এবং ইউএনএফপিএ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড অং আশা টর্কেলসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্প স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিসেস ইয়াংহাহ দহ বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার (এমএইচএম) জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবে নারী ও মেয়েদের মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ads

যেমন শিক্ষা, কর্মসংস্থান। আমরা আশা করি, এমএইচএম সুবিধায় উন্নত জ্ঞান এবং অ্যাক্সেস সম্পর্কিত প্রকল্পের সহায়ক পদক্ষেপগুলো নারী এবং মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, আÍবিশ্বাস, মর্যাদা এবং কলঙ্ক ছাড়াই প্রকল্প পরিচালনা করতে অবদান রাখবে। যাতে তারা সমাজে সম্পূর্ণ এবং সমানভাবে অংশগ্রহণের ক্ষমতা পায়। একটি স্বাস্থ্যকর এবং উৎপাদনশীল জীবন যাপন করেন।

এ প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বিশেষ করে এসডি ৩.৭ অর্জনে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করবে কাইকো। এটি একটি চলমান প্রতিশ্রুতি, যার লক্ষ্য যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবার সার্বজনীন অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা।

ঋতুস্রাব সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, তবুও এটি নারী ও মেয়েদের তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করেছে। কোইকা এবং কক্সবাজারে আমাদের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে এই সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা ঋতুস্রাব সম্পর্কিত নিষিদ্ধতা এবং বাধা দূর করার জন্য সহযোগিতা করতে এবং মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই, বাংলাদেশের নারীদের এবং মেয়েদের কাছে আরও সহজলভ্য করার জন্য তাদের সাহায্য করা।

এ চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো- ২০২১-২০২৪-এর মধ্যে এই অংশীদারত্ব, মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জ্ঞান উন্নয়নে সহযোগিতা করবে। কক্সবাজারে নারী ও মেয়েদের মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমকে সমর্থন করবে। ১২টি টার্গেট কমিউনিটিতে ১৭ হাজার ১৬০ কিশোরী ছেলে, নারী এবং পুরুষ পরিচর্যাকারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, কিশোর-কিশোরী এবং নারী পরিচর্যাকারীদের নিজস্ব ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মাসিকের সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা কিটগুলো কিশোরী, মেয়েদের মধ্যেও বিতরণ করা হবে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরুষ এবং ছেলেদের মধ্যেও মাসিক স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার এবং বর্তমানে জেলায় পরিচালিত লিঙ্গ-রূপান্তরমূলক জীবন দক্ষতা শিক্ষা কর্মসূচিতে মাসিকের সেশনগুলোকে যুক্ত করা হবে।

ঋতুস্রাবের স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি এবং লিঙ্গ সমতার উপরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ধর্মীয় এবং নারী নেত্রীরা ঋতুস্রাব নিয়ে জনসাধারণের মাঝে স্বাভাবিকভাবে বক্তৃতা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবেন।

ad

পাঠকের মতামত