কানাডায় নিহত আদিবাসী শিশুদের স্মরণে পদযাত্রা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কানাডার আবাসিক স্কুলগুলো নিহত হওয়া আদিবাসী শিশুদের স্মরণে পদযাত্রা করেছেন দশ হাজার কানাডিয়ান। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ পদযাত্রায় কানাডিয়ান নাগরিকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় রং সাদা ও লালের পরিবর্তে শোক প্রকাশের জন্য কমলা রঙের টিশার্ট পরেন। এভাবে এ পদযাত্রার মাধ্যমে তারা নিহত আদিবাসী শিশুদের প্রতি শোক প্রদর্শন করেন।
আদিবাসী শিশুদের স্মরণে হাজার হাজার কানাডিয়ান নাগরিক লন্ডন, ওন্টারিওতে সববেত হয়েছিলেন। আর কানাডার মন্ট্রিল, থান্ডার বে ও অন্য শহরে তারা পদযাত্রা করেন। এ সময় তারা কানাডার জাতীয় দিবস উপলক্ষে যে র্যালি বা পদযাত্রা হয় তাতে কানাডার ঐতিহ্যবাহী জাতীয় রং সাদা ও লালের পরিবর্তে শোক প্রকাশের জন্য কমলা রঙের টিশার্ট পরেন। জুলাই মাসের ১ তারিখে কানাডার জাতীয় দিবসের দিনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে কানাডার আদিবাসী শিশুদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
১৮২০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার বিভিন্ন আবাসিক স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিশুদের প্রতি যে বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় তার বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আদিবাসী শিশুদের হত্যার ঘটনা স্মরণ করে এবারের কানাডার জাতীয় দিবসে অধিকাংশ সম্প্রদায় চুপ ছিলেন আথবা তারা এ দিবসটি পালন করেননি। এ সম্পর্কে জাস্টিন ট্রুডো আনাদোলু এজন্সিকে বলেন, এবার জুলাই মাসের ১ তারিখে কানাডার জাতীয় দিবস আড়ম্বরের সাথে পালন করা হবে না। কারণ, কানাডিয়ান হিসেবে আমাদেরকে অতীত বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথ আচরণ করতে হবে। আদিবাসী শিশুদের হত্যা ঘটনাকে তিনি অতীতের বর্বরতা ও ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন।
১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার এক লাখ ৫০ হাজার আদিবাসী শিশুকে জোর করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে পরিচারিত আবাসিক স্কুলগুলোতে ভর্তি করা হতো, যাতে করে এসব শিশু কানাডার পশ্চিমা সমাজের মধ্যে মিশে যায়। এ সকল শিশুদের মধ্যে কয়েক হাজার শিশু বিভিন্ন রোগ, যৌন নির্যাতন ও অন্যান্য কারণে মারা গেছে। অনেক শিশু আর কখনো তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি।
ওই সময়ে কানাডায় ১৩০টির মতো খ্রিস্টান চার্চ পরিচালিত স্কুল ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব স্কুলগুলো খ্রিস্টান মিশনারীরা চালাতেন। এসব স্কুলগুলোতেও শিশুদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। এসব শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে মারধরেরও শিকার হতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অচিহ্নিত গণকবরে এসব শিশুদের লাশ পাওয়া যায়।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি









