দলীয় পরিচয় অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে পারে না : ওবায়দুল কাদের
নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট। দলীয় পরিচয় কোনো অপরাধীর রক্ষাকবচ হতে পারে না। তা সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় দেখেছেন।
নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার উদ্যোগে নির্মিত পৌরপার্ক ও টার্মিনালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার দুপুরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন যতই হোক সবকিছু ম্লান হয়ে যায় দু-একটা নেতিবাচক ঘটনায়। সম্প্রতি নারীর প্রতি অবমাননা ও ধর্ষণের যেসব ঘটনা বেগমগঞ্জে হয়েছে, এই জেলার মানুষ হিসেবে আমি নিজেও লজ্জা পাচ্ছি। সামাজিক অবনমন তথা মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং কালচার কোথাও কোথাও মানুষের স্বাভাবিক জীবনে উদ্বেগের কালো ছায়া ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অদম্য গতিতে যে এগিয়ে যাওয়া, তার প্রভাব নোয়াখালীতেও পড়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ফেনী থেকে বেগমগঞ্জ এবং বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কঠোরভাবে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- নোয়াখালী জেলার যারাই নারী ধর্ষণ করবে, মাদকসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তারা আওয়ামী লীগের লোক হলেও ব্যবস্থা নিতে আপনারা এতটুকু সংকোচবোধ করবেন না। শেখ হাসিনার মতো আমিও আমার জেলা নোয়াখালীতে কোনো অপরাধ-অন্যায়ের ব্যাপারে কোনো আপস করব না। যারা এসব অপরাধ-অপকর্ম করবে তাদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা চিরতরে বন্ধ দিতে হবে। গুটিকয়েক অপরাধীর জন্য সরকারের উন্নয়ন অর্জন ম্লান হতে পারে না।
জনপ্রতিনিধির উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসীদের আশ্রায়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদের আমলনামা শেখ হাসিনার হাতে আছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে অপরাধী পোষণের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ কখনই বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। আওয়ামী লীগ তাদের (বিএনপির) নেতিবাচক ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ’৭৫-এর খুনি ও খুনের মদদদাতা, গ্রেনেড হামলার খুনের মাস্টারমাইন্ড ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বগলে নিয়ে যারা দেশের রাজনীতিকে বিষাক্ত করেছে তাদের কাছে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কথা শুনতে ভালো না লাগাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা শুনলে ‘হাওয়া ভবনতন্ত্রের’ কুশীলবদের গাত্রদাহ তো হবেই।
রাজপথের রাজনীতিতে বিএনপিকে এখন হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদের রাজনীতি এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস ও গণমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ। বিএনপি মহাসচিবকে একজন সজ্জন মানুষ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি তো নিজের কথা বলেন না, শুধু রিলে করেন, তিনি হচ্ছেন পুতুল নাচের পুতুল। অন্ধকার থেকে সুতোর টানে চলে বিএনপির অপরাজনীতি আর লিপ সার্ভিস।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়নি, বরং অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং জনঘনিষ্ঠ। বিএনপি সেদিনই দেউলিয়া হয়েছে, যেদিন তারা তাদের গঠনতন্ত্র থেকে দুর্নীতিবিরোধী ৭ ধারা বাতিল করেছে। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দলের দায়িত্ব দিয়ে সেদিনই বিএনপি দলের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে।











