মহাসড়কের পাশে চালকদের বিশ্রামাগার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ওবায়দুল কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার নিমসারে এবং ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে সিরাজগঞ্জে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভিডিও কনফারেন্সে পণ্যবাহী যানবাহন চালকদের জন্য দুটি বিশ্রামাগার নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম।
কুমিল্লা থেকে কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন, সহজ কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শওকত আলী, সওজ কুমিল্লার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া, সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি উপনির্বাচনে আগে থেকেই ভরাডুবির আশঙ্কা করছে, জনগণের কাছে তারা কী বলে ভোট চাইবেন? তাদের ঝোলায় ইতিবাচক কিছু নেই, তাই বিএনপি বরাবরের মতো মিথ্যা অভিযোগের তীর ছুড়তে শুরু করছে। বিএনপির সব রাজনৈতিক কৌশল এখন জনগণের কাছে ভোঁতা হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিধায় যেকোনও দলের গণতন্ত্র চর্চা ও রীতিনীতিকে সম্মান করে। সরকার শ্রদ্ধা করে বিরুদ্ধমত, আর তাই বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো প্রতিনিয়ত সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে, করছে মিথ্যাচার। অবাধ মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলেই বিরোধী দলগুলো সমালোচনা করতে পারছে, আর গণমাধ্যম স্বাধীন বলেই তারা প্রচার ও প্রকাশ করতে পারছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দিবারাত্র সমালোচনা করেও বিএনপি নেতারা দেশে গণতন্ত্র নেই বলে যে অভিযোগ করেন, তা তাদের নিজেদের অভিযোগের অসারতা প্রমাণ করে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বিএনপি নেতাদের বলেন, ‘অন্ধ সমালোচনা ও মিথ্যাচারের জন্য তাদের কোনও নেতাকে কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে?—তারাই বলুক। শেখ হাসিনা পরমতসহিষ্ণু বলেই বিএনপি অবিরাম মিথ্যাচারের ঢোল বাজিয়ে যেতে পারছে।
সরকারের মদতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হচ্ছে’ বিএনপি নেতাদের এই অভিযোগের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কমিটি গঠনের পর তাদের অফিসে আগুন দিয়েছে কে? নিজেরা মারামারি করে নিজেদের হাত ভাঙছে, মনোনয়ন নিয়ে চালাচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম—এসব তো তাদের নিজেদের সৃষ্টি।
সরকার যেকোনও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে অটল জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজ দলের কেউ অপরাধ করলে শাস্তি প্রদানের সাহস একমাত্র শেখ হাসিনাই রাখেন।
এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, নিরাপদ ও উন্নয়নবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ১২১টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকের ঝুঁকি হ্রাস করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট স্ অংশীজনের মাঝে সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সমন্বয় যত দৃঢ় হবে মহাসড়ক তত নিরাপদ হবে। সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে।
ওবায়দুল কাদের জানান, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করায় মুখোমুখি সংঘর্ষ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশাসহ নন-মোটরাইজড যানবাহনের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে হবে।










