শ্রমজীবী মানুষের সাথে চীনের শীর্ষনেতা সি চিন পিং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জনগণের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে পরিশ্রমের ওপর; পরিশ্রমই প্রাচুর্য নিশ্চিত করে। চীনা জাতি পরিশ্রমী এবং সৃষ্টিতে পারদর্শী। শ্রমের কারণেই চীন ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে; শ্রমের কারণেই আমরা আজকের এই সাফল্য অর্জন করেছি।
দশক ধরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং যেখানেই গেছেন, সেখানেই জনগণের সাথে বাঁধ নির্মাণ, খাল মেরামত, বৃক্ষরোপণ, আঠালো চালের পিঠা তৈরি, সয়াবিন পেষাইসহ নানান কাজ করার উষ্ণ স্মৃতি রেখে গেছেন, যা একজন জননেতার শ্রম-কেন্দ্রিক প্রকৃতি এবং জনমুখী অনুভূতির পরিচয় দেয়।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আসুন আমরা সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের জনগণের সাথে চিন্তা ও কাজ করার উষ্ণ মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করি।
চীনের কান সু প্রদেশের কু লাং জেলায় অবস্থিত পা পু শা ফরেস্ট ফার্ম। যেসব বনশ্রমিক বহু বছর ধরে মরুভূমিতে বালু নিয়ন্ত্রণ ও বৃক্ষরোপণের কাজে নিযুক্ত আছেন, তাদের কাছে নালা কাটার লাঙল একটি পরিচিত কৃষি-সরঞ্জাম।
২০১৯ সালের ২১ আগস্ট, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং তাঁর পরিদর্শনকালে বনকর্মীদের মাঝে হেঁটে যান; নিচু হয়ে একটি নালা কাটার লাঙল তুলে নেন এবং তাঁদের সাথে কাজে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বালিতে দুই মিটারেরও বেশি লম্বা একটি সোজা নালা খোঁড়া হয়ে গেল!
সাধারণ সম্পাদক বললেন, “আমার এখনও কৃষিকাজ করার শক্তি আছে।” তাঁর কথায় সবাই গভীরভাবে একাত্মতা বোধ করল।
সময় বদলায়, কিন্তু তাঁর উদ্বেগ একই থাকে। কয়েক দশক ধরে, সি চিন পিং যেখানেই গেছেন, তাঁকে মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে দেখা গেছে। শ্রমিকদের প্রতি তাঁর আন্তরিক ও গভীর যত্ন কখনও কমেনি।
সায়ান সি প্রদেশের লিয়াং চিয়া হ্য’তে সি চিন পিং নানা ধরনের কাজ করেছেন: চাষাবাদ, কয়লা টানা, বাঁধ নির্মাণ, সার বহন, ইত্যাদি। ফু চিয়ান প্রদেশের নিংতে’তে তিনি কোদাল হাতে নিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে মাঠে কাজ করেছেন। চেচিয়াং প্রদেশের ছাং সিং’তে তিনি খনি শ্রমিকের পোশাক ও শিরস্ত্রাণ পরে প্রায় হাজার মিটার গভীর এক খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। চিয়াং সি প্রদেশের চিং কাং শান শহরে তিনি কাঠের হাতুড়ি হাতে তুলে নিয়ে, স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে আঠালো চালের পিঠা তৈরি করেছেন। সি ছুয়ান প্রদেশের ওয়েন ছুয়ানে তিনি যাঁতাকল ঘুরিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে তোফু পিষেছেন। বেইজিং-এ তিনি রাজধানীর মানুষের সাথে স্বেচ্ছায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীনের চান্দ্রপঞ্জিকার নববর্ষের প্রাক্কালে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং বেইজিংয়ের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। ফেরার পথে তিনি তখনও কর্মরত ডেলিভারিম্যানদের সাথে দেখা করার জন্য ছিয়ান মেন শি থৌ হু থোং-এর একটি কুরিয়ার সার্ভিস পয়েন্টে থামেন।
সাধারণ সম্পাদক ডেলিভারিম্যান লিউ খুও-এর হাতের ধুলো উপেক্ষা করে তার সাথে করমর্দন করেন। তিনি সদয়ভাবে তাদের কাজ ও জীবনযাত্রার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের চান্দ্র নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
সি চিন পিং বলেন, ডেলিভারিম্যানরা খুব কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁরা ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে বৃষ্টি হোক বা রোদ, গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন এবং ছুটির দিনে তাঁদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। পরিশ্রমী ছোট মৌমাছির মতো, তাঁরা সবচেয়ে অধ্যবসায়ী কর্মী, যাঁরা সকলের জীবনে সুবিধা বয়ে আনেন। সাধারণ সম্পাদকের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও সদয় উত্সাহব্যঞ্জক কথায় উপস্থিত ডেলিভারিম্যানদের মন ভরে যায়।
নির্মাণস্থলে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন এবং “তাদের প্রতি আরও বেশি যত্ন ও সহানুভূতি দেখানোর” প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। ট্যাক্সি কোম্পানিগুলোতে তিনি ছুটির দিনে গাড়ি পাওয়ার অসুবিধার সমাধান নিয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরিচ্ছন্নতা কেন্দ্রগুলোতে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শহরের “রূপসজ্জাকার” হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সর্বদা বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি বলেন, “শ্রমের পেশায় উচ্চ-নীচ কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রতিটি পেশাই সম্মানজনক। শ্রমিক শ্রেণি এবং শ্রমজীবী জনগণের প্রাপ্তি, সুখ ও নিরাপত্তার অনুভূতি ক্রমাগত বৃদ্ধি করতে হবে। ডেলিভারি কর্মী, রাইড-হেইলিং কর্মী এবং ট্রাকচালকের মতো কর্মজীবী গোষ্ঠীর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। সময় যতই বদলাক না কেন, আমাদের অবশ্যই শ্রমকে সমুন্নত রাখতে হবে, শ্রমিকদের সম্মান করতে হবে এবং প্রধান শক্তি হিসেবে শ্রমিক শ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণের ভূমিকাকে পূর্ণ গুরুত্ব দিতে হবে।” এই সহজ কথাগুলো সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের আন্তরিক অনুভূতি প্রকাশ করে।
সাধারণ সম্পাদক জোর দিয়ে বলেন, “স্বপ্ন সবার এবং বিশাল শ্রমজীবী জনগণের চিন্তা করার, কাজ করার এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের সাহস থাকা উচিত। পরিশেষে, চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবনের চীনা স্বপ্ন বাস্তবায়ন সর্বস্তরের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে।”
২০২০ সালের ২৯ মার্চ, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং, চে চিয়াং প্রদেশের নিংপো-চৌ শান বন্দর পরিদর্শন করেন এবং বন্দর শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন। জাতীয় মডেল কর্মী ও ক্রেন অপারেটর চু শি চিয়ে, একজন শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে, নিংপো-চৌ শান বন্দরের অর্জন সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন।
“মডেল কর্মীদের ভূমিকা পুরোপুরি কাজে লাগান এবং আরও মডেল কর্মী তৈরি করুন।” এটি ছিল চু শি চিয়েকে দেওয়া সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ। এই নির্দেশ চু শি চিয়েকে উত্সাহে ভরিয়ে তোলে। তিনি শিক্ষামূলক উপকরণ রচনা করেন, মডেল তৈরি করেন, তার দলকে উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন এবং আরও দক্ষ প্রতিভা গড়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হন। আজ, চু শি চিয়ে ক্রেন অপারেশন পদ্ধতি সংস্করণ ৪.০-তে উন্নীত হয়েছে এবং চু শি চিয়ে ইনোভেশন স্টুডিও তিন হাজারেরও বেশি ক্রেন অপারেটরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
ঘাম ঝরানো পরিশ্রমই ফসলের জোগান দেয় এবং কঠোর পরিশ্রম অবিচল অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়। সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সর্বদা আদর্শ কর্মী ও তাদের কাজের প্রতি যত্নশীল ছিলেন, বারবার শ্রম সৃষ্টি ও শ্রমের চেতনার প্রশংসা করেছেন এবং আদর্শ কর্মীদের চেতনা, শ্রমের চেতনা ও কারুশিল্পের চেতনাকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৮তম জাতীয় কংগ্রেস থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪শ জনেরও বেশি জাতীয় আদর্শ কর্মী ও অগ্রগামী কর্মীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁদের অনুকরণীয় কর্মকাণ্ড বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করেছে, যা নতুন যাত্রাপথে এগিয়ে যেতে এবং নতুন যুগে অবদান রাখতে এক শক্তিশালী শক্তি সঞ্চয় করেছে।










