26695

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইতালীয় অনুবাদ প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক: বেশ কয়েক বছর চেষ্টার পর অবশেষে শোকের মাসে ইতালীয় ভাষায় প্রকাশিত হলো বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এর ফলে ইতালীয় নাগরিকদের পাশাপাশি আগামী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানার সুযোগ পাবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ইতালীয় ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রম শুরু হয় কয়েক বছর আগে। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে শোকের মাস আগস্টে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। ইতালির একটি স্বনামধন্য প্রকাশনী বইটি ছাপে।

ads

ইতালীয় ভাষায় বইটি প্রকাশনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং রোম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কনস্যুলেট হোসনে আরা বেগম।

তিনি বলেন, জাতির জনককে বিশ্বে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়।
২০১২ সালের জুনে প্রকাশিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চিনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্পেনীয়, অসমীয়া ও রুশ ভাষায় বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ads

বইটি ইতালীয় ভাষায় অনুবাদের মূল দায়িত্বে ছিলেন বাংলা ভাষার উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ইতালীয় তরুণী আন্না। এমন একটি বই অনুবাদ করতে পেরে দারুণ খুশি তিনিও।

প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশির বসবাস ইতালিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশটির আগামী প্রজন্ম বইটি হাতে পেলে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নতুন করে জানার সুযোগ পাবেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইতালীয় সংস্করণটি দেশটির বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

২০১২ সালের জুনে প্রকাশিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন অসমাপ্ত আত্মজীবনী। এ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চিনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি, তুর্কি, নেপালি, স্পেনীয়, অসমীয়া ও রুশ ভাষায় বইটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়। খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট ছিল। মূল্যবান সেই খাতাগুলি পাঠ করে জানা যায় এগুলো বঙ্গবন্ধুর লেখা আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে থাকা অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। পরে এগুলো বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় গ্রন্থাকারে অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামে ২০১২ সালের জুনে প্রকাশ করা হয়। জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেনও, এই বইটি তার সাক্ষর বহন করছে।

শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের অনেক সময়ই কেটেছে জেলখানায় বন্দি অবস্থায়। ১৯৬৬-৬৯ সালে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দী ছিলেন। এ নিরিবিলি নিরানন্দ সময়গুলোতে বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং সহধর্মিণীর অনুপ্রেরণায় তিনি জীবনী লেখা শুরু করেন।

ad

পাঠকের মতামত