কুমিল্লায় ব্র্যাকের রেফারেল কর্মশালা অনুষ্ঠিত
নিউজ ডেস্ক: ব্র্যাক মাইগ্রশন প্রোগ্রাম এর অধীনে পরিচালিত,ও সুইজারল্যান্ড এম্ব্যাসি সহায়তায় বাস্তবায়িত “রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লায় একটি রেফারেল ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে। কর্মশালার লক্ষ্য ছিল বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের আর্থ–সামাজিক পুনরেকত্রীকরণে রেফারেল প্রক্রিয়ায় জড়িত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী করা।
এ প্রেক্ষাপটে আজকের কর্মশালায় ৪৫ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, সিভিল সার্জন, কুমিল্লা, এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মো: মেহেদী মাহমুদ আকন্দ, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, কুমিল্লা, মো: সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক),কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিক,কৃষি অধিদপ্তর, জেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যান সেন্টার,প্রবাসী কল্যান ব্যাংক, বি এস টি আই ছাড়াও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এর কর্মকর্তা, এনজিও/সিএসও, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও বিদেশ ফেরত অভিবাসী ছাড়াও আরো অনেকে। কর্মশালায় বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের সহায়তায় কার্যকর রেফারেল মেকানিজম গড়ে তোলা এবং সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডাঃ আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ, সিভিল সার্জন, কুমিল্লা ,প্রধান অতিথি তার উদ্ভোধনী বক্তব্যে বলেন- “বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শ্রমশক্তি-নির্ভর দেশ। প্রতি বছর অনেক মানুষ বিদেশে যান, আবার অনেকে ফেরত চলে আসেন। রেফারেল ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যারা ফেরত চলে এসেছেন তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানাই। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত নারী অভিবাসীদের জন্য এ ধরনের সেবা আরও বেশি প্রয়োজন।
আমি বিশ্বাস করি, জেলা পর্যায়ে একটি সমন্বিত রেফারেল প্যাকেজ থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা উচিত।“
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো: মেহেদী মাহমুদ আকন্দ বলেন, ব্র্যাকের মাধ্যমে চিহ্নিত প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের নাম, ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত শেয়ার করা হলে তাদের চাহিদাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সরকারি সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেফারেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে আগত প্রত্যাবর্তী অভিবাসী জন্য সেবার কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্ত আরও সুসংগঠিত, নির্ভুল ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন, যাতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেবা প্রদানে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। তিনি ব্র্যাকের মাইগ্রেশন টিমের ইতিবাচক ও নিবেদিতপ্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, তাদের প্রচেষ্টা প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও সেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কর্মশালায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কর্মকর্তা ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণসেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, শাখা ব্যবস্থাপকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে ঋণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মো: সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, যাদেরকে আমরা আগেই “শ্রমিক” বলে আখ্যায়িত করে দেই তারা সেখানেই মানসিক ভাবে পিছিয়ে পড়ে, এবং এ কারনে তারা আর ঘুরেও দাড়াতে পারে না। যারা সরকারী কর্মকর্তারাও যখন অবসরে চলে আসেন তারাও জানেন না যে তাদের পরর্বতী জীবন কীভাবে চলবে? একইভাবে আমাদের বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের জীবনের অবস্থাও একই, তারাও জানেন না যে তাদের এখন কী করার প্রয়োজন, কোথায় যাবেন, কোথায় কি সেবা আছে ইত্যাদি। তাই বিদেশ ফেরতদের জন্য কি কি সেবা আছে তা জানানো গুরুত্বপূর্ণ যাতে করে তারা আবারো শক্ত ভাবে ঘুরে দাড়াতে পারে।
এছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাদের দপ্তরের সেবা সমূহ তুলে ধরেন এবং আশ্বাস প্রদান করেন তারা বিদেশ ফেরত মানুষের পাশে থাকবেন এবং এসকল মানুষের তালিকা তাদের দপ্তরে প্রদান করার আহ্ববান জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সেবাসমূহ, চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বয় শক্তিশালী করার সুযোগগুলো চিহ্নিত করেন। তারা যৌথভাবে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেন, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রেফারেল ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং ভবিষ্যত ফলো–আপের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইব্রাহিম খলিল, ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর,কুমিল্লা, ব্র্যাক মাইগ্রশন প্রোগ্রাম । প্রোগ্রামের স্বাগত বক্তব্য রাখেন জিয়া উদ্দিন আহমেদ, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী, ব্র্যাক।
ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার নাজিবা আক্তার প্রকল্পের রিইনটিগ্রেশন ও রেফারেল কার্যক্রমের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং অংশীজনদের ভূমিকা ও দায়িত্ব স্পষ্ট করেন।
ব্র্যাক পুনরেকীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জেন্ডার–সংবেদনশীল এবং সেবামুখী করতে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।










