ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলিকে বিচারমন্ত্রী করলেন এরদোগান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কে ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলি আকিন গুরলেককে নতুন বিচারমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান; পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও রদবদল হয়েছে, যা বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তার পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এলো।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ইস্তাম্বুলের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (প্রধান কৌঁসুলি) আকিন গুরলেককে নতুন বিচারমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিচারমন্ত্রী ইয়িলমাজ তুনচের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।
বুধবার ভোরে প্রকাশিত দেশটির সরকারি গেজেটে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই রদবদলের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
একই সাথে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও নিয়োগ দেয়া হবে।
গেজেটে বলা হয়েছে, দু’জনই পদত্যাগ করেছেন।
তুরস্কের বৃহত্তম শহরের প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে গুরলেক গত বছরের মার্চে ইস্তাম্বুলের প্রভাবশালী মেয়র একরেম ইমামোগলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পদক্ষেপটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়। এতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রেফতারের কয়েক দিন আগে ইমামোগলুকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান বিরোধী সিএইচপি দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
ব্যালটের লড়াইয়ে এরদোগানকে হারাতে সক্ষম একমাত্র রাজনীতিক হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছিল।
সাবেক উপ-বিচারমন্ত্রী গুরলেকের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, তিনি এরদোগানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সিএইচপির ১৫ জনের বেশি মেয়রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশিভাগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততা ও প্রেসিডেন্টকে অপমানের অভিযোগে সিএইচপির শত শত সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্তের নির্দেশ দেন গুরলেক।
৫৪ বছর বয়সী ইমামোগলু বর্তমানে একাধিক মামলার মুখোমুখি। এর মধ্যে একটি মামলায় গুরলেকের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গুরলেককে হুমকি ও অপমানের অভিযোগে সিএইচপি নেতা ওজগুর ওজেলের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা।
বর্তমান বিচারমন্ত্রী ইয়িলমাজ তুনচের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন গুরলেক। আর আলি ইয়ারলিকায়ার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়া হচ্ছে পূর্বাঞ্চলীয় এরজুরুম প্রদেশের গভর্নর মুস্তাফা চিফতচিকে।











