63821

গাজা ও ইউক্রেনে শান্তির পক্ষে মোদির অটল অবস্থানের প্রশংসা করলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনসহ বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থানের প্রশংসা করেছেন।

দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, পুত্রাজায়ায় আজ অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের এই অঙ্গীকার বৈশ্বিক শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি দেশটির সমর্থনকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মোদির সঙ্গে তার আলোচনা কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কেরই প্রতিফলন ছিল এই সংলাপ।

ads

তিনি আরও বলেছেন, এটি ছিল প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে এক ধরনের বিনিময়—যেখানে আস্থা ও বোঝাপড়া রয়েছে। তাই ইউক্রেন ও রাশিয়া হোক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের গাজা—বিশ্বব্যাপী সব শান্তি উদ্যোগে তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শান্তি প্রক্রিয়ায় তার অঙ্গীকার দ্ব্যর্থহীন, এবং এজন্যই আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এছাড়া নতুন কনস্যুলেট খোলার বিষয়ে বারনামা জানিয়েছে, আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেছেন, মালয়েশিয়া ভারতের কোতা কিনাবালুতে একটি নতুন কনস্যুলেট জেনারেল খোলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন হিসেবে আমি সাবাহর কোতা কিনাবালুতে ভারতীয় কনস্যুলেট খোলার সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছি।” এছাড়া মালয়েশিয়া ও ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে রিঙ্গিত ও রুপি ব্যবহারের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

ads

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারত ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে। নিরাপত্তা খাতে আমরা সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদার করব। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতেও আমাদের অংশীদারিত্ব বাড়বে।

বৈশ্বিক প্রসঙ্গে মোদি বলেছেন, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড নয়, কোনো আপস নয়’—এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। কোতা কিনাবালুতে কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি তাকে ও তার প্রতিনিধিদলকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়ার জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেছেন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে ভারত।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, গত বছর রেকর্ড হওয়া ১৮.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে মালয়েশিয়া–ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫২.৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত (১২.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং আমদানি দাঁড়িয়েছিল ২৭.১৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ সময় মালয়েশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল পাম তেল ও পাম তেলভিত্তিক কৃষিপণ্য, পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য। অন্যদিকে, আমদানির বড় অংশজুড়ে ছিল কৃষিপণ্য, পেট্রোলিয়াম ও রাসায়নিক পণ্য।

আসিয়ান সম্পর্কে বারনামা আরও জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক প্লাস কাঠামোর আওতায় ভারতের সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন এবং ২০২৪–২০২৭ মেয়াদে সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহ-সভাপতিত্বকে স্বাগত জানান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আসন্ন ‘এক্সপার্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন কাউন্টার-টেররিজম টেবিলটপ এক্সারসাইজ-এ অংশ নিতে এডিএমএম-প্লাসের সব সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত ও মালয়েশিয়ার সহ-সভাপতিত্বে এই মহড়া ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ad

পাঠকের মতামত