62920

সুবিধাবঞ্চিত ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলো ‘দুর্বার বাংলাদেশ’

নিউজ ডেস্ক: কনকনে শীতের রাতে যখন কুমিল্লা নগরীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য, ঠিক তখনই মানবিকতার উষ্ণতা নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দুর্বার বাংলাদেশ’।

শীতের তীব্রতায় নগরীর ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন অলিগলিতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা অসহায়, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে গভীর রাতে কম্বল বিতরণ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। হাতে হাতে কম্বল পেয়ে শীতার্ত মানুষগুলোর চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।

ads

কম্বল পেয়ে একাধিক উপকারভোগী জানান, শীতের রাতে ঘুমানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমন সময়ে এই সহায়তা নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।
এদিকে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে থাকে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীরা। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করে ‘দুর্বার বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝেও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হলে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ ও স্বস্তি।
দুর্বার বাংলাদেশ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতা উল্লাহ বলেন, “রাতের শীত কতটা কষ্টদায়ক, তা যারা খোলা আকাশের নিচে থাকে তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝে। আমাদের এই কম্বল বিতরণ শুধু শীত নিবারণের প্রয়াস নয়, এটি মানবিক সহমর্মিতার প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই একটি মানবিক ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।”

সংগঠনের সভাপতি মঈন নাসের খাঁন রাফি বলেন,
“শীতের রাতটাই সবচেয়ে কঠিন সময়। অসহায় মানুষ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতেই আমরা গভীর রাতে মাঠে নেমেছি। একটি কম্বল হয়তো ছোট বিষয়, কিন্তু শীতার্ত একজন মানুষের জন্য এটি বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন। শীতকালজুড়ে আমাদের এই কার্যক্রম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।”

ads

এ বিষয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকিবুল আলম রিফাত বলেন,
“এই শীতে যেন কেউ কষ্টে না থাকে—এই চিন্তা থেকেই আমাদের ভলেন্টিয়াররা মাঠে নেমেছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর কাঁপা শরীর আমাদের নাড়া দিয়েছে। মানুষের পাশে থাকাই দুর্বার বাংলাদেশের শক্তি ও অঙ্গীকার।”
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দুর্বার বাংলাদেশ’ আবারও প্রমাণ করেছে—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

ad

পাঠকের মতামত