62807

প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অভিবাসন নিয়ে কী বললেন ম্যার্ৎস ও মোদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমবার ভারতে এসে পৌঁছানোর পর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রথমে সবরমতীতে গান্ধী আশ্রম ঘুরে দেখেন, তারপর তারা যান সবরমতী নদীর তীরে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে অংশ নিতে। এরপর শুরু হয় মোদী ও ম্যার্ৎসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বৈঠকের পর বেশ কিছু সমঝোতায় সই হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

কী বললেন ম্যার্ৎস

ads

জার্মানির চ্যান্সেলার ম্যার্ৎস বলেছেন, ”দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর চলছে। এর থেকেই বোঝা যায়, দুই দেশ একে অন্যকে কতটা গুরুত্ব দেয়। জার্মানির কাছে ভারত হলো পছন্দের অংশীদার।”

ম্যার্ৎস জানিয়েছেন, ”আমরা ভারতের সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা চাই। আমরা চাই, ভারত যেন এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়ে।”

ads

জার্মান চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, ”প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ভারতে দুই হাজারের বেশি জার্মান সংস্থা রয়েছে। আমি এটাও জানাতে চাই, জার্মানিতে তার থেকেও বেশি ভারতীয় সংস্থা আছে। ৬০ হাজারের বেশি ভারতীয় ছাত্রছাত্রী এখন জার্মানিতে পড়াশুনো করছে। বিদেশি পড়ুয়াদের নিরিখে ভারত একেবারে উপরের স্থানে আছে।”

ম্যার্ৎস জানিয়েছেন, ”আমরা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, এআই, ডিজিটাইলেজেশন, হাইড্রোজেন নিয়ে কাজ করব। আমার সঙ্গে বিশাল প্রতিনিধিদল এসেছে। জার্মানির প্রমুখ শিল্পপতিরা আছেন।”

জার্মানির চ্যান্সেলর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেোন, ”আমরা ভারত থেকে উচ্চশিক্ষিত প্রশিক্ষিত শ্রমিক চাই। নার্সিং, হেলথ কেয়ার, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, বাণিজ্যিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব থাকবে। আমরা আইনসঙ্গত ও নিয়মমাফিক অভিবাসন অনুমোদন করছি। এর সংখ্যা আমরা আরো বাড়াতে চাই। আমরা ট্যালেন্ট বাড়াতে চাই।”

ম্যার্ৎস বলেছেন, ”এ মাসের শেষে ইইউ-র প্রতিনিধিল আসছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলতে। জার্মানি এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে।”

জার্মান চ্যান্সেলর এই বছরের শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জার্মানি সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী যা বলেছেন

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ”ভারত ও জার্মানি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পর্ককে জোরদার করছে। নবীকরণ করা যায় এমন শক্তির ব্যবহার ও গড়ে তোলা নিয়ে দুই দেশ হাত মিলিয়েছে। দুই দেশের সংস্থার মধ্যে গ্রিন হাইড্রোজেন নিয়ে যে মেগা প্রজেক্টে হবে, তা প্রকৃত অর্থেই গেম চেঞ্জার হবে।”

মোদীও বলেছেন, ”প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে। এই নিয়ে রোড ম্যাপ তৈরি হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কো ডেভলাপমেন্ট ও কো প্রোডাকশন হবে।”

মোদী ঘোষণা করেছেন, ”ভারতে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্যাম্পাস খুলতে পারবে। আর ম্যার্ৎস ভারতীয়দের জন্য ট্র্যানসিট ভিসা ফ্রি করার কথা জানিয়েছেন। ভারত ও জার্মানি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে। দুই দেশ একসঙ্গে ঘানা, ক্যামেরুনের মতো দেশে গিয়ে কাজ করছে।

মোদী জানিয়েছেন, ”গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে ম্যার্ৎসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। দুই দেশ মনে করে, সন্ত্রাসবাদ মানবতার কাছে বিপদ। দুই দেশ একসঙ্গে এর মোকাবিলা করার কথা বলেছে। দুই দেশই চায়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক।”

ইরান নিয়ে

মোদী ও ম্যার্ৎস দুজনেই ইরান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মোদী সহিংসতার কঠোর নিন্দা করেছেন। ম্যার্ৎস বলেছেন, প্রতিবাদকারীদের উপর সহিংসতা হলো দুর্বলতার চিহ্ন। ডয়চে ভেলে

ad

পাঠকের মতামত