58830

‘শক্তিশালী হতে হবে’: সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করছে ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার, সন্ত্রাসবাদ এবং সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন নজিরবিহীন হুমকির কথা উল্লেখ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী দুই বছরে অতিরিক্ত ৬৫০ কোটি ইউরো (৭৬০ কোটি ডলার) সামরিক ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে রবিবার সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই ঘোষণা দেন। তিনি ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় ৬ হাজার ৪০০ কোটি ইউরোতে (৭ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার) উন্নীত করা। ২০১৭ সালে যখন তিনি প্রথমবার ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন এই বাজেট ছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি ইউরো।

ads

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া ঐতিহ্যবাহী ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, “১৯৪৫ সালের পর স্বাধীনতা আর কখনো এত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েনি। আমরা পারমাণবিক হুমকির প্রত্যাবর্তন এবং বড় আকারের সংঘাতের বিস্তার প্রত্যক্ষ করছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই বিশ্বে স্বাধীন থাকতে হলে আমাদের সমীহজাগানিয়া হতে হবে। আর সমীহ জাগাতে হলে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে।”

ads

জাতীয় ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাক্রোঁ যুক্তি দেন যে ফ্রান্স এই বর্ধিত প্রতিরক্ষা ব্যয় বহন করতে সক্ষম। তার এই সামরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বানে রক্ষণশীল এবং উগ্র-ডানপন্থী দলগুলো সমর্থন জানিয়েছে। তবে বামপন্থী বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, সরকার অত্যাবশ্যক সামাজিক পরিষেবার চেয়ে সামরিক খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইউরোপ শুধু ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার কারণেই গুরুতর হুমকির সম্মুখীন নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তনের কারণেও নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।”

ক্রমবর্ধমান হুমকির অংশ হিসেবে ম্যাক্রোঁ বিদেশি মদদপুষ্ট অপতথ্য প্রচারণার কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ডিজিটাল যুগে শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো প্রচারণাও অন্তর্ভুক্ত।

তার কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের শীর্ষ সামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আলোচনায় ইউরোপের নিরাপত্তায় ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি একটি বিরল পদক্ষেপে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য পারমাণবিক প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা গভীর করতে সম্মত হয়েছে।

রাশিয়া বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার আগে ম্যাক্রোঁ এই ভাষণ দিলেন। একই সময়ে ন্যাটোর মহাসচিব দুই দিনের আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তরের জন্য ন্যাটো মিত্রদের কাছে উন্নত অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা উন্মোচন করেন। ইউক্রেন এখনও ক্রমাগত রাশিয়ার বিমান হামলার শিকার হচ্ছে।

এদিকে, ফরাসি সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল থিয়েরি বুরখার্ড ইউক্রেনের বাইরেও রাশিয়ার আগ্রাসী কার্যকলাপের কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহের কাজে হস্তক্ষেপ, সমুদ্রের নিচের অবকাঠামোয় অন্তর্ঘাত এবং ফ্রান্স ও আফ্রিকায় অপতথ্য প্রচারণা। তিনি কৃষ্ণ সাগর, সিরিয়া, ভূমধ্যসাগর এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর রাশিয়ার বিমানের সঙ্গে অন্যান্য সামরিক বিমানের ঘন ঘন মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু ‘লা ট্রিবিউন দিমাঞ্চ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। লেকর্নু সতর্ক করে বলেন, “বড় শক্তিগুলো এবং বিস্তারশীল দেশগুলো গোপনে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। আমরা কি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাই?”

 

ad

পাঠকের মতামত