36776

সৌদিতে আরব বসন্ত! ভরা গ্রীষ্মে মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরিতে গায়ে সোয়েটার

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এ যেন সত্যিই উলটপুরাণ। মরুভূমিতে হু হু করে নামছে পারদ। ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট। তাই ভরা গ্রীষ্মে গায়ে চাপাতে হচ্ছে উলের পোশাক। প্রয়োজন পড়ছে কম্বলের। পাশাপাশি, বেলা বাড়লে বা রাতের দিকে কোনও কোনও দিন হচ্ছে তুমুল বৃষ্টি। সম্প্রতি এই ছবি ধরা পড়েছে Saudi Arabia-র শহর Al Namas-এ। প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার জন্য বর্তমানে যাকে এখন ‘কুয়াশার শহর’ বা ‘City of Fog’ বলে উল্লেখ করছেন আরব ধনকুবেররা।

রুক্ষ আরব মরভূমির মাঝে মরূদ্যান শহর Al Namas। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার। ভরা গ্রীষ্মে সাধারণত এখানকার তাপমাত্রা প্রায়শই উঠে যায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। সম্প্রতি হঠাৎ করেই সেখানে নামতে শুরু করেছে পারদ। দিনের বেলা ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকছে না তাপমাত্রা। আর রাত হতেই সেটা নেমে আসছে ১৫ ডিগ্রিতে। পাশাপাশি, দাপট দেখাচ্ছে কুয়াশা। Saudi-র আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, রাজধানী Riyadh-এ যেখানে তাপমাত্র ঘোরাফেরা করছে ৪৬ ডিগ্রির আশপাশে, সেখানে ওই এলাকায় তা নেমে গিয়েছে ২০ ডিগ্রিরও কম। এছাড়াও ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। তবে প্রকৃতির এই খামখেয়ালির কারণ কী, তা নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আবহবিদরা।

ads

অন্যদিকে মরুভূমিতে তাপমাত্রা নামায় এবং তার সঙ্গে মেঘ-কুয়াশার লুকোচুরি শুরু হওয়ায় ওই শহরে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। Saudi প্রশাসন সূত্রে খবর, বছরের এই সময় ওই এলাকায় পর্যটকদের যা ভিড় থাকে, বর্তমানে তা প্রায় ১০-১২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার কথা ভেবে তড়িঘড়ি একটি সাইকেল বে তৈরি করেছে প্রশাসন। ফলে কুয়াশার মধ্যে সাইকেল রাইড উপভোগ করছেন বহু পর্যটক।

অন্যদিকে আর-রুব-আল-খালি (Rub’ al Khali) মরভূমিতে বিরাট এক বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছে সৌদি প্রশাসন (Saudi Administration)। পশ্চিমী দুনিয়ার একাধিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মরভূমির মধ্যে ৭৫ মাইল লম্বা এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছে এই বিল্ডিং। বিশালাকার এই ইমারতে থাকতে পারবেন অন্তত ৫০ লক্ষ মানুষ। সৌদি প্রশাসন সূত্রে দাবি, বিভিন্ন পেশার মানুষকে এখানে রাখা হবে। এদের মধ্যে থাকবেন কৃষকরাও। তাঁদের জন্যে ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ের (Vertical Farming) ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিল্ডিয়ের নীচে চলবে ভূগর্ভস্থ ট্রেন (Tube Rail)। যাতে করে দেশের অন্যান্য শহরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন এখানকার বাসিন্দারা। গোটা প্রকল্পের জন্য খরচ করা হবে ১ লক্ষ কোটি টাকা।

ads
ad

পাঠকের মতামত