কে হচ্ছেন ইতালির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নানা টানাপোড়েনে ইতালির রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এখনও কোন সরকার ধারাবাহিক ভাবে দেশ চালতে পারেনি। আগামী মাসের শেষ দিকে শুরু হতে যাচ্ছে আগাম নির্বাচন।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালি প্রজাতন্ত্রের ১৯তম আইন সভার আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইতোমধ্যেই প্রচার, প্রচারণায় মুখরিত পুরো দেশ। বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে অনেক দলের প্রার্থী দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে সবার মনে একটাই প্রশ্ন কে হচ্ছেন ইতালির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
এই মুহূর্তে আলোচিত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বের্লুসকনির দল মধ্য-ডানপন্থী ফরছা ইতালীয়া, পারতিতো ডেমোক্রেটিক (পিডি), মধ্য-বামপন্থী দলের সাধারণ সম্পাদক এনরিকো লেত্তা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির লেগা নর্দ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তির ফাইভ স্টার মুভমেন্ট, ফ্রাতেল্লি ডি ইতালীয়া সভাপতি জরজা মেলোনি, আসিয়োনে দলের সাধারণ সম্পাদক কারলো কালেনদা এবং সিভিক এনগেজমেন্টের নেতা লুইগি ডি মাইও।
দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচনী মাঠ ততই সরগরম হচ্ছে। এসব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ নির্বাচনের পর। এবারও ডানপন্থী, মধ্য ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী একাদিক দলের সঙ্গে লড়াই হতে পারে। তবে এবার মধ্য বামপন্থীদের মধ্যে কোন্দলের কারণে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে কি না তা নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই জানা যাবে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নিয়মিত গণসংযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা বুঝেশুনে প্রার্থী নির্বাচন করবেন। বিগত কয়েক বছরের হিসাব কষে প্রার্থী নির্বাচন করতে ভোট কেন্দ্রে যাবেন ভোটাররা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত টানা ৫ বছর কোনো সরকার টিকে থাকতে পারেনি। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডানপন্থী ও ফাইভস্টার মুভমেন্টসহ অন্যান্য দল মিলে জোট সরকার গঠন করেছিল।
এসময় প্রধানমন্ত্রী হন জুসেপ্পে কোন্তি। প্রায় ১৪ মাস দেশ পরিচালনা করার পর ২০১৯ সালের ২০ আগষ্ট তিনি পদত্যাগ করেন। কোন্তি ২০১৮ থেকে ২০১৯ এরপর আবার ২০১৯-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি আবার ২৬ জানুয়ারি পদত্যাগ করে ক্ষমতাচ্যুত হন।
দেশটিতে যখন সরকার সংকট দেখা দেয় ঠিক তখন প্রেসিডেন্ট সেরজো মাতারেল্লা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ও সাবেক ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতি মারিও দ্রাঘির হাতে। তিনি প্রায় ১৮ মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরই মধ্যে শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। গোটা ইউরোপেই এর রেষ দেখা দেয়। নানা রকম সংকটের প্রভাব এসে পড়ে ইতালিতেও। ২০২১ সালের ১৯ জুলাই দ্রাঘি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পদত্যাগপত্র দিলে প্রেসিডেন্ট তা গ্রহন করেননি। পরে সংসদে নিম্নকক্ষ থেকে উচ্চকক্ষে আস্থা ভোটে দ্রাঘি সরকারের পতন হয় অর্থাৎ ২১ জুলাই ২০২১ তার পদত্যাগ কার্যকর করা হয়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ইস্যুসহ নানা কারনে সংসদে দ্রাঘি আস্থা ভোটে লেগা নর্দ, ফরছা ইতালিয়া ও ফাইভ স্টার মুভমেন্ট ছাড়া ৯৪ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর পথ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় দ্রাঘিকে।এভাবেই দেশটিতে সরকার সংকট ঘনীভূত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ আসন ছিল ৯শ ৫১। এর মধ্যে উচ্চকক্ষে ৩শ ২১ এবং নিম্নকক্ষে ৬শ ৩০ আসন ছিল।
জানা গেছে,দ্রাঘি সরকারের আমলে সাধারণ চাকরি জীবিদের বেতন ভাতা-বৃদ্ধির একটি আলোচনা যখন চলমান শরীক দলের নেতারা ব্যাপারটি ভাল ভাবে নেননি। বরং রীতিমতো বিরোধিতা করেন তারা। স্থানীয়রা মনে করেন এসব কারণেও হতে পারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রাঘির পতন।









