24684

আবার আগের পৃথিবীতে ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবার আগের পৃথিবীতে ফিরে আসছে ব্রিটেন। উঠতে বসতে সামাজিক দূরত্বের বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত হচ্ছে জনগণ। করোনার ভয়ে হারিয়ে যাওয়া আলিঙ্গন-করমর্দন, বার-নাইট ক্লাব, আড্ডায় ফের প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে নাগরিক জীবন। করোনার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ধরন ডেল্টার চরম তাণ্ডবের মধ্যেই রোববার (বাংলাদেশ সময় সোমবার) এই দুঃসাহসী পদক্ষেপের কথা জানান বরিস। সোমবারই (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে করোনা বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার ‘ঐতিহাসিক’ ঘোষণা দেবেন তিনি। এএফপি, গার্ডিয়ান।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের নাজেহাল ব্রিটেনে দীর্ঘ লকডাউনের পর পুরোদমে আনলকের আগে দেশবাসীকে বললেন, ‘করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকা শিখতে হবে আমাদের। করোনাকে মোকাবিলা করতে করতেই জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনতে হবে।’ এর আগে ২১ জুন থেকে ব্রিটেন আনলক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে করোনার ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। বরং আরও কয়েক দিন কঠোর বিধিনিষেধ জারি রাখা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটেনে সম্প্রতি নতুন করে করোনায় আক্রান্তদের বেশির ভাগের শরীরেই মিলেছে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট। রোববারও নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বরিসের এ সিদ্ধান্তে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ফ্যাক্টরি হবে গোটা ব্রিটেন। এসব কোনো বাধাই তোয়াক্কা করছেন না বরিস। এমনকি মাস্ক পরা না পরার বিষয়টিও জনগণের বিবেচনার ওপরই ছাড়তে চায় তার সরকার। বিবিসির এক অনুষ্ঠানে এমন কথা জানিয়েছেন দেশটির আবাসন মন্ত্রী রবার্ট জেনরিক। তিনি মনে করেন, মাস্ক নিয়ে একেকজন একেক রকম প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন কিন্তু আস্থাভাজন নাগরিকরা সুবিবেচনার পরিচয় দেবেন। রাশিয়ার পর ইউরোপের এই দেশেই করোনায় মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক। তার পরও ভয় পাচ্ছে না ব্রিটেন। অন্য অর্থে, করোনা বিপর্যস্ত লকডাউন বিশ্বে ব্রিটেনই প্রথম পথ দেখাচ্ছে পুরান পৃথিবীতে ফেরারা। আগের জীবনে ফেরার লক্ষ্যে শুরু থেকেই জোর দেওয়া হয়েছে গণটিকাকরণে। ব্রিটেনই প্রথম দেশ, যেখানে ডিসেম্বর থেকে টিকাদান শুরু হওয়ার পর প্রায় রেকর্ড গড়েছে। এই মুহূর্তে ব্রিটেনের ৬৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ককে দুই ডোজ করে টিকা দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ লাখ তিন হাজার ৪৩৪। মারা গেছে এক লাখ ২৮ হাজার ২২২ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ৪৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৬ জন। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ৩০০ জন।

ads
ad

পাঠকের মতামত