18876

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে হলে এটির স্থানীয়করণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহ করা সব ধরনের সেবায় সাধারণ নাগরিকদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গঠনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বস্তরের নাগরিকদের এসডিজি অর্জন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা না গেলে এ বিশাল উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘গণতান্ত্রিক সুশাসন ও স্থানীয় উন্নয়ন: তৃণমূল প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন। সম্মেলনে পৃষ্ঠপোষকতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। আরেক সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক, অক্সফাম বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ড. দীপঙ্কর দত্ত ও সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এছাড়া সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য জিএম কাদের।

ads

অধ্যাপক রেহমান সোবহান তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেসব সেবা সরবারাহ করে, সেগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা যেন তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নাগরিকদের যথাযথ সেবা সরবরাহ করেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়োনিষ্কাশন ও অবকাঠামো সুবিধা ব্যবহারে সব নাগরিকের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এসডিজির যেসব লক্ষমাত্রা রয়েছে, সেগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নাগরিকরা যাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের প্রাপ্য সেবা যথাযথ উপায়ে পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে এসডিজি বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে উপযুক্ত উপলব্ধি সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার যেন অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এসডিজি বিষয়ে যেসব নীতি কাঠামো প্রণয়ন করছে, সেগুলোর বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের মধ্যে যাতে যথাযথ উপলব্ধি সৃষ্টি হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সব জনগোষ্ঠীর জীবনচক্রভিত্তিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বালিকা ও নারীদের সুরক্ষায় জোর দিতে হবে। তারা যেন কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার না হয়, সে বিষয়ে নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

ads

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার সব করে ফেলবে এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এসডিজি অর্জনে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার কার্যক্রমে সিপিডির গৃহীত কার্যক্রমকে সরকার সাধুবাদ জানায়। তিনি বলেন, একটি বিষয় প্রায়ই বলা হয়ে থাকে। তা হলো নাগরিকদের ক্ষমতায়ন। এ ক্ষমতায়ন বলতে আমরা কী বুঝি? এ ক্ষমতায়ন হলো সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়নে নাগরিকদের সম্পৃক্তকরণ। সরকারের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যদি সর্বস্তরের মানুষ সম্পৃক্ত না হয়, তাহলে ২০৪১ সাল নাগাদ সরকার উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠায় যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সফল করা যাবে না। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় মডেল উদ্ভাবনের জন্য সিপিডির প্রতি আহ্বান জানান।

নাগরিক সম্মেলন থেকে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুবদের জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কারিকুলাম অনুযায়ী ও প্রয়োজনে হাতে-কলমে শেখানোর ওপর গুরুত্ব প্রদান; উপজেলা পর্যায়ে যুব প্রশিক্ষণের ল্যাব স্থাপন ও ইউনিয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি সেবা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা; তৃণমূল পর্যায় থেকে সঠিক চাহিদা নিরূপণ ও সে অনুযায়ী বরাদ্দ নির্ধারণ করা; স্থানীয় পর্যায়ের দারিদ্র্যের হার, জনসংখ্যা ও বেকারত্বের হার বিবেচনায় রাখা; উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এনজিওগুলোকে অন্তর্ভুক্তকরণ প্রভৃতি।

ad

পাঠকের মতামত