২০২২ সালের মধ্যে চালু হবে চার মেগা প্রকল্প: ওবায়দুল কাদের
ডেস্ক নিউজ: চলমান মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর মিলল সরকারের পক্ষ থেকে। যোগাযোগ সেক্টরে সর্ববৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতুসহ চারটি বড় যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ শেষে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রবিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। এসময় মন্ত্রী চলমান রাজনীতি, ভোট নিয়ে বিএনপির অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
একযুগের শাসনে জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগের অবদান জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের যে দায়িত্বটি আমি পালন করছি সেখানে চারটি মেগা প্রজেক্ট আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও কর্ণফুলি টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে, গতি পেয়েছে। তিনি বলেন, সবগুলো আগামী ২০২২ সালে উদ্বোধন করতে পারব। ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই আমরা এই প্রকল্পগুলো চালু করব। চার প্রকল্পের মধ্যে ২০২১ সালের ডিসেম্বেরের মধ্যে মেট্রোরেল চালু যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা যথাসময়ে অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে জানান মন্ত্রী।
গত বছরের আট মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে অবরুদ্ধ পরিস্থিতে চলে যায় পুরো দেশ। এ অবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের গতি কার্যত স্থিমিত হয়ে পড়ে। প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ের পর অক্টোবর থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রকল্পগুলোতে আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়। ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর পুরো মূল কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে গত ডিসেম্বরে।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ বছরের চ্যালেঞ্জগুলো জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল সড়কের শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করেছি। প্রায়োরিটি, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। বিশ্বব্যাংকও একটা ফান্ড আমাদের দিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শৃঙ্খলা না থাকলে উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে।
এখনও অনেকে নজরদারিতে ॥ সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযান এখন আর খুব একটা দৃষ্যমান না হলেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে এখনও অনেকে নজরদারিতে আছেন।
দুর্নীতি দমনে কী উদ্যোগ নেয়া হবে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা কাউকে ছাড় দিয়েছি কিনা সেটা হলো প্রশ্ন। আমাদের আমলে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে টার্গেটে রয়েছেন আমাদের দলের লোকেরা। আমাদের যারাই যখন ধরা পড়েছেন আমাদের পরিচয়ে, যেমন শাহেদ যেটা করেছে তাকে কিন্তু ছাড় দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক জনপ্রতিনিধি জেলখানায় আছেন। সরকার নিজেদের লোকদের ছাড় দিলে তো আরো দুর্নীতি-অনিয়ম বিস্তার করতো, ক্যাসিনো থেকে শুরু করে এখনো শুদ্ধি অভিযান চলছে। এখনো অনেকে নজরদারিতে আছেন।
দীর্ঘদিন একটি সরকার ক্ষমতায় থাকলে স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যায় কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার দাপট দেখায় এরকম লোক আছে। তাদের ব্যাপারে আমরা সতর্ক। যারা ক্ষমতার দাপট দেখাবে, আমরা কিছু কিছু শাস্তি দিয়েছি। তবে শাস্তি শুধু বহিষ্কার করা নয়। অনেকেই অনেক বড় জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছে। দল বিভিন্নভাবে শাস্তি দিতে পারে। শাস্তির প্রক্রিয়ার ধরন নতুন করোনার ধরনের মতো। শাস্তিরও নতুন ধরন আছে, আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শাস্তি দিতে পারি। যে একটা বিশাল জায়গায় আছে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হলো, এটা কি শাস্তি নয়?
বিএনপির সময় সকাল নয়টার মধ্যে ভোট শেষ ॥ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভোট বর্জন রাজনীতি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। কাদের বলেন, বিএনপির সময় সকাল ৯টার মধ্যে অনেক জায়গায় ভোট শেষ হয়ে গেছে, আমার নির্বাচনী এলাকায় ১০টার সময় ভোট শেষ করে দিয়েছে। সাড়ে ১০টায় সরকার দলীয় ক্যান্ডিডেট গিয়ে বলেছে এখনও কী ভোট শেষ হয়নি। এগুলো তো তারা করেছে, এ ধরনের নির্বাচন তো আমরা করিনি।
ওবায়দুল বলেন, বিএনপি ভোট ডাকাতির কথাটা বলে, তারা যে ভোট ডাকাতি করেছে তারপরে তো আমরা ক্ষমতায় আসিনি। এরপরে এরশাদ সাহেবও অনেকদিন ছিলেন, তখনও একটা নির্বাচন হয়েছিলো। তারা নিজেরা হ্যাঁ-না ভোট করেছে, না ভোটের বাক্সই ছিলো না, এটা কী ধরনের ডাকাতি।
বিএনপি বলছে আগের রাতেই আপনাদের সময় ভোট শেষ হয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এটা বলতেই পারে। তারা নির্বাচনী ট্রাইবুনালে যায় না কেন। সেখানে গিয়ে অভিযোগ দেয় না কেন। তাদের শক্তি আছে কি নেই সেটা তাদের জিজ্ঞেস করেন।
বিএনপির আন্দোলন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর হয়ে গেলো, আন্দোলন হবে কবে। বছরের শুরুতে বলে এবার সরকার পতনের আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান করবো। গণঅভ্যুত্থান তো দূরের কথা ছোট একটা ঢেউও তৈরি করতে পারেনি। কর্মীদের চাঙা রাখতে তারা এসব বলেন। আমরা তাদের স্পেস দিয়ে রেখেছি। তারা তো ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের দলের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়েছে।
রাজনীতির মাঠ কখনোই সুখকর নয় একথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতারা কর্মসূচি ডেকে বাসায় বসে হিন্দি সিনেমা দেখে। বিরোধীদলে থাকাকালে আমাদের সব নেতারাও মাঠে ছিলো, কর্মীরা আসতে পারতো না কিন্তু নেতারা থাকতো। অথচ তাদের নেতারা বাসায় বসে ফোনে পুলিশের গতিবিধির খবর নেয়। তবে তাদের সাফল্য শুধু জিয়ার মুক্তি। কিন্তু তার কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। বিএনপি তো সেটা পারেনি। শহরের ১ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে তারা মিছিল করতে পারেনি। তারা কি করেছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য।
বিএনপি তো মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন কি মামা বাড়ির আবদার, কি কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন। জনদাবি ছাড়া এটা কীভাবে বলে। হুট করে বিবৃতি দিয়ে দিলাম মধ্যবর্তী নির্বাচন, এটা তো মামা বাড়ির আবদার। আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য মধ্যবর্তী তামাশা চাই না।
মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্যানডামিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী তদারকি করছেন। মন্ত্রীসভার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যখন মনে করবেন, তবে কোথাও কোন অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবুও রুটিন পরিবর্তন হয়, হয়তো করোনা প্যানডামিকের কারণে সেটি হয়নি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত আছে। সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধিন্ত দেবেন। ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন জানুয়ারির শেষ নাগাদ ভ্যাকসিন আসতে পারে। একটি সরকার এতো বছর ধরে ক্ষমতায় আছে, ফলে অসম্পূর্ণ কাজ করতে পারছে। আমাদের দেশে এক সরকার গেলে অন্য সরকার সেটি বাতিল করে। এমনও হতে পারে আওয়ামী লীগ করেছে বলে পদ্মা সেতু ভেঙে দেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় থাকতে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিচারণ করছি। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল ছিলেন, তিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন আমি আজ তাকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অসুস্থ, তিনি আমার এলাকার মানুষ। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।










