63915

ইউরোপকে ‘বিশ্বশক্তি’ হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান ম্যাক্রোঁর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপকে বিশ্ব মঞ্চে আরও দৃঢ়ভাবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে ইউরোপকে একটি শক্তি হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার।

চীন, রাশিয়া এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও বাড়তে থাকা হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপ একটি বড় ধরনের জাগরণ মুহূর্তের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। ইউরোপীয় বিভিন্ন পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অর্থনীতি ও অর্থায়ন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই ইউরোপকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে— তারা কি সত্যিই একটি শক্তিতে পরিণত হতে প্রস্তুত?

ads

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ম্যাক্রোঁ আবারও ইউরোপজুড়ে যৌথ ঋণ (মিউচুয়ালাইজড লোন) নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য শত শত বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহ করা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ ব্যয়ের জন্য যৌথ ঋণ সক্ষমতা চালু করার সময় এসেছে— ভবিষ্যতের জন্য ইউরোবন্ড দরকার। সেরা প্রকল্পগুলো অর্থায়নের জন্য বড় ইউরোপীয় কর্মসূচি প্রয়োজন।

ads

এর আগে এ ধরনের প্রস্তাব জার্মানি ও কয়েকটি দেশের আপত্তির মুখে পড়েছিল। তাদের ধারণা, ফ্রান্স নিজস্ব সংস্কারে ব্যর্থ হয়ে ইউরোপের কাঁধে আর্থিক বোঝা চাপাতে চায়।

ম্যাক্রোঁ স্বীকার করেন, ফ্রান্সের অর্থনৈতিক মডেল কখনোই ভারসাম্যপূর্ণ ছিল না এবং ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের কিছু দেশের মতো দায়িত্বশীল কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তবে তিনি বলেন, এখন বিশ্ববাজারে ইউরোপীয় যৌথ ঋণের চাহিদা বাড়ছে।

তার মতে, বিশ্ববাজার ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে এবং বিকল্প খুঁজছে। একই সঙ্গে, আইনের শাসনভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় আকর্ষণ।

ম্যাক্রোঁ জানান, ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বছর প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের জন্য।

তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে নিজেদের শিল্প সুরক্ষা দেয়, ইউরোপকেও তার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো রক্ষা করতে হবে। তবে তিনি এটাও বলেন, ইউরোপকে পুরোপুরি সুরক্ষাবাদী হতে হবে না, বরং নিজেদের উৎপাদকদের ওপর যে নিয়ম চাপানো হয়, অন্যদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য করা উচিত।

ম্যাক্রোঁ বলেন, আজ ইউরোপ এক বিশৃঙ্খল বিশ্বের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যাকে আমরা চিরকাল নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে বলে ভেবেছিলাম, তারা আর নিশ্চিত নয়। রাশিয়া তিন বছর আগে পর্যন্ত আমাদের সস্তা জ্বালানি দিত, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। চীন এখন ক্রমেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, আজ ইউরোপীয়রা একা, কিন্তু আমরা ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ— এটি বিশাল শক্তি। ইউরোপকে শক্তিতে পরিণত করাই ইউরোপীয় অভিযাত্রার পূর্ণতা।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, ইউরোপ যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগে। তার ভাষায়, একটি সংকট শেষে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভাবে সব শেষ। কিন্তু এক সেকেন্ডের জন্যও এটা বিশ্বাস করবেন না।

সূত্র: বিবিসি

ad

পাঠকের মতামত