সৌদি আরব ও ইসরাইলের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই বিক্রির মধ্যে আছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগে, সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের কাছে ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই অস্ত্র চুক্তির মূল্য ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরাইল যেন শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে এবং তা ধরে রাখতে পারে- এতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি সেই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ এই প্যাকেজের আওতায় ইসরাইলের কাছে আরও ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের যৌথ লাইট ট্যাকটিক্যাল যান (জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল) বিক্রির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকে, যার বেশির ভাগই সরাসরি সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়, বিক্রির মাধ্যমে নয়।
এদিকে অঞ্চলটির অন্য অংশেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি মোতায়েন করেছে। একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সৌদি আরবের কাছেও ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাবে, যা আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।
ইরানে ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর দেশটির ওপর চাপ বেড়েছে। এসব বিক্ষোভ দমনে সরকার হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র না হলেও সৌদি আরব ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো আশঙ্কা করছে, বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তাদের ব্যবসা-বান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে ওঠা সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করে আসছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সম্ভাবনা ক্রমেই দূরবর্তী হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইসরাইলি পক্ষের ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এএফপির হিসাবে, এই সংখ্যার মধ্যে গাজায় বন্দিদশায় মারা যাওয়া বা নিহত হওয়া জিম্মিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপর থেকে ইসরাইলের পাল্টা সামরিক অভিযানে গাজার ছোট এই উপকূলীয় ভূখণ্ডে অন্তত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।










