বিশ্বকাপের আগেই জোড়া গোলে রোনালদো চমক, আল নাসরের শিরোপা জয়
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চমক দেখল বিশ্ব। নিজে জোড়া গোল করলেন, দলকে শিরোপা জেতালেন। আর সবমিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে ঝড় তোলার পূর্বাভাসও দিলেন তিনি।
সৌদি আরবের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনী মুখ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অবশেষে আল-নাসরের হয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বাদ পেলেন।
বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন তিনি রিয়াদে পাড়ি জমান, লক্ষ্য ছিল একটাই ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করা। তবে প্রায় সাড়ে তিন বছর সৌদি প্রো লিগের কোনো বড় ঘরোয়া শিরোপা জিততে না পারায় তৈরি হয়েছিল এক ধরনের বিস্ময়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। লিগের শেষ ম্যাচে দামাকের বিপক্ষে রোনালদোর জোড়া গোলে ৪-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় পায় আল-নাসের।
এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালকে পেছনে ফেলে ২০১৯ সালের পর নিজেদের প্রথম লিগ শিরোপা ঘরে তুললো ক্লাবটি।
সৌদি প্রো লিগে সম্প্রতি নিজের ১০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১২৯টি গোল করেছেন। তবে দামাকের বিপক্ষে জয়টি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্বস্তির। কারণ এর মাত্র কয়েক দিন আগেই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে হেরে হতাশ হতে হয়েছিল আল-নাসরকে।
আল-নাসরের এটি ১১তম লিগ শিরোপা হলেও, রোনালদোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের এটি অষ্টম লিগ জয়। এর আগে তিনি ইংল্যান্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইতালিতে জুভেন্টাসের হয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
রোনালদোর এই আগমন সৌদি আরবের ফুটবল বিপ্লবের পথ তৈরি করেছিল। তার পথ ধরেই করিম বেনজেমা, সাদিও মানে, নেইমার এবং এনগোলো কান্তের মতো বিশ্বসেরা তারকারা সৌদি ক্লাবগুলোতে যোগ দেন। তবে চলতি মৌসুমের লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না।
ইভান টোনির আল-আহলি এবং তেল জায়ান্ট আরামকোর পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া আল-কাদসিয়াহ একটা সময় পর্যন্ত শিরোপার দৌড়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে যায়। ফলে লড়াইটা কেবল আল-নাসর ও আল-হিলালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত এই দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটিকে সৌদি লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলা হচ্ছে, যা বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে সম্প্রচার করা হয়েছিল।









