64497

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংকট ঘিরে সতর্কতা: দূতাবাস কর্মী সরালো যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে দূতাবাসের কর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সতর্কবার্তার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নেয়। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তেহরানে তাদের দূতাবাস দূরবর্তী ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ads

এদিকে চীন, ভারত ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় সমঝোতা না হলে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ইরানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এবারই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে।

ads

ইরানের আশপাশে দুটি বিমানবাহী রণতরী, বহু যুদ্ধবিমান, জাহাজ এবং বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নেয়।

মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম এমন কোনও চুক্তিতে দুই পক্ষ পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, নিজ নিজ দেশে ফিরে আলোচনা করে দুই পক্ষ আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই পরবর্তী বৈঠক হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার এই সম্ভাবনা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে।

ad

পাঠকের মতামত