চীন থেকে ‘তুরুপের তাস’ নিয়ে ফিরলেন জার্মান চ্যান্সেলর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ তার দুই দিনের চীন সফর শেষ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে তিনি কেবল বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের বরফই গলাননি, বরং আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের মোকাবিলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ‘বার্গেনিং চিপ’ বা তুরুপের তাস হাতে পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চীনের প্রযুক্তি হাব হিসেবে পরিচিত হাংঝু সফর শেষে মের্জ তার এই সফরকে ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেন। চ্যান্সেলর হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম চীন সফর। সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ১২০টি নতুন এয়ারবাস বিমান কেনার বিষয়ে চীনের সম্মতি। মের্জ জানান, এই চুক্তি প্রমাণ করে যে বেইজিংয়ের সাথে সরাসরি সংলাপ কতটা কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য, চীনের তিয়ানজিনে এয়ারবাসের দুটি অ্যাসেম্বলি লাইন রয়েছে যা মূলত স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। বিশ্লেষক সং ঝাওপিংয়ের মতে, মের্জের এই চীন সফর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি পরিষ্কার বার্তা। জার্মানি যে কেবল মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়, তা বেইজিংয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন। এটি আগামী দিনে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় জার্মানির দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে।
সফল চুক্তির পাশাপাশি মের্জ চীনের ‘ওভারক্যাপাসিটি’ বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত বছর চীনের সাথে জার্মানির বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ৮৯ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। মের্জ স্পষ্ট করে বলেন, চীন ইউরোপের বাজারে সস্তা পণ্যের যে জোয়ার তৈরি করছে, তা বাজারের স্বাভাবিক চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি সুস্থ প্রতিযোগিতার অন্তরায়। কেবল বাণিজ্য নয়, ভূ-রাজনৈতিক সংকটেও মের্জ চীনের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চান। তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অনুরোধ করেছেন যাতে বেইজিং মস্কোর ওপর তাদের প্রভাব খাটিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখে। যদিও এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত, তবে মের্জ মনে করেন আলোচনার মাধ্যমেই কেবল রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব। যদিও এই সফরে কোনো বড় ধরনের নাটকীয় মোড় আসেনি, তবে মের্জ এবং চীনা নেতৃত্ব দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনে একমত হয়েছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মুখে জার্মানি এবং চীনÑউভয় দেশই বর্তমানে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় একে অপরের পরিপূরক হতে চাইছে। সূত্র : এসসিএমপি।











