64454

কুয়েতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ও মুক্তি দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দেশপ্রেমের চেতনা ও উৎসবের আমেজে কুয়েতে পালিত হচ্ছে ৬৬তম জাতীয় দিবস ও ৩৫তম মুক্তি দিবস। বুধবার সকাল থেকেই কুয়েতের রাজপথ, সুউচ্চ ভবন ও প্রধান চত্বরগুলো জাতীয় পতাকার চার রঙ—সবুজ, সাদা, কালো ও লাল—আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠেছে।

কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এ বছর দেশজুড়ে ব্যাপক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কুয়েত টাওয়ার ও গালফ রোড-এর উপকূলীয় এলাকায় জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আকাশে যুদ্ধবিমানের মহড়া প্রদর্শন করে কুয়েতি বিমানবাহিনীর চৌকস দল জাতীয় পতাকার রঙে ধোঁয়া উড়িয়ে মনোমুগ্ধকর কসরত প্রদর্শন করে।

ads

কুয়েতের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ‘আরদা’ (তরবারি নৃত্য) ও লোকসংগীতের মূর্ছনায় মুখরিত ছিল বিভিন্ন চত্বর।

দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে আলোকসজ্জা ও আতশবাজি ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যার পর আকাশজুড়ে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানি উৎসবের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ads

দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনের সতর্কতা ও শৃঙ্খলা ছিল জোরদার। এবারের উৎসবে কুয়েত প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাস্তাঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে পানি ছিটানো বা বড় আকারের পতাকা দিয়ে গাড়ি ঢেকে ফেলা—যা চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়—এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কুয়েত মিউনিসিপ্যালিটি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েতিদের পাশাপাশি দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই উৎসবে শামিল হয়েছেন। অনেক বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় দোকানপাট ও বাসাবাড়ি বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। কুয়েতের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসীরাও আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নেন।

জাতীয় দিবস ও মুক্তি দিবস উপলক্ষে কুয়েতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটিতে কুয়েতের পার্ক, সমুদ্রসৈকত ও মরুভূমির ক্যাম্পগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই উৎসব কেবল কুয়েতের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্বের জয়গান নয়; বরং এটি দেশটির ঐক্য, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

ad

পাঠকের মতামত