কিউবার সংকট পুরো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কিউবার অস্থিরতা শুধুমাত্র দেশটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।
রুবিও বলেছেন, কমিউনিস্ট সরকারের দীর্ঘ দিনের ভুল নীতিই কিউবার ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ।
রুবিও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি (ক্যারিকম) সম্মেলনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে— তা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র সেন্ট কিটস ও নেভিসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি কিউবার সমস্যার প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
রুবিও বলেন, কিউবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একমাত্র সুযোগ হলো আমূল সংস্কার। এখন কিউবার পরিস্থিতি ধ্বংসপ্রায়। যদি তারা যথাযথ সংস্কার করে, তাহলে তা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পথ খুলে দিতে পারে।
কিউবার অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তিনি সরকারের অপ্রয়োজনীয় নীতিমালা ও ব্যক্তিগত খাতের অভাবকে দায়ী করেছেন।
কিউবা ১৯৫৯ সালের ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে কমিউনিস্ট শাসনে রয়েছে।
অস্থিরতার সতর্কতা
রুবিওর বক্তব্যের সময় কিউবা জানিয়েছে, ফ্লোরিডায় একটি নৌকায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিউবার দাবি, বন্দুকধারীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশটিতে অনুপ্রবেশ করতে চেয়েছিল। মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এ ঘটনা যাচাই করছে এবং প্রয়োজনে প্রতিক্রিয়া দেবে।
ক্যারিবিয়ান নেতারা সতর্ক করেছেন, কিউবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং অভিবাসন বৃদ্ধির কারণ হবে। জামাইকায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস বলেছেন, মানবিক সংকট কারো জন্যই সহায়ক নয়। কিউবার দীর্ঘমেয়াদী সংকট কিউবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে বিতর্ক
রুবিও মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, এ ঘটনার পর থেকে ভেনেজুয়েলা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। দেশটি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায়। এখন সেখানে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রয়োজন।
হাইতির পরিস্থিতি
রুবিও হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ার ফিলস-আমাইমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হাইতির শক্তিশালী গ্যাং দমন ও নতুন জাতিসংঘ অনুমোদিত বাহিনী স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদী। রুবিও আশা প্রকাশ করেছেন, হাইতি এবার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করতে পারবে।











