64372

জার্মান চ্যান্সেলরের সাথে সি চিন পিংয়ের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আজ (বুধবার) বিকেলে বেইজিংয়ের তিয়াওয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।

এ সময় সি চিন পিং বলেন, চীন ও জার্মানি যথাক্রমে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। চীন-জার্মানি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং ইউরোপ ও বিশ্বের ওপরও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব যত বেশি অস্থির ও জটিল হচ্ছে, ততই চীন ও জার্মানির উচিত কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করা, পারস্পরিক কৌশলগত আস্থা বৃদ্ধি করা, এবং চীন-জার্মানি সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা।

ads

এ সময় চীন-জার্মানি সম্পর্কের ভবিষ্যৎউন্নয়নের লক্ষ্যে সি চিন পিং ৩-দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন:
প্রথমত, দেশ দুটিকে পারস্পরিক সমর্থনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে হবে। চীন ও জার্মানি নিজেদের উন্নয়নের ভিত্তিতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও উন্মুক্ত সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ads

দ্বিতীয়ত, উভয় দেশকে উন্মুক্ত ও পারস্পরিক লাভজনক উদ্ভাবনী অংশীদার হতে হবে। জার্মান সরকার প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল খাতে নতুন উন্নয়নকৌশল গ্রহণ করেছে, যা চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’-র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ উন্নয়ন ও সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই পক্ষের উচিত পরস্পরের উন্নয়ন-কৌশলের সমন্বয় জোরদার করা; দুই দেশের মধ্যে প্রতিভা, জ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্বিমুখী প্রবাহকে সমর্থন করা; এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অগ্রগামী ক্ষেত্রগুলোতে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানো। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করে, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করা এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও জরুরি।

তৃতীয়ত, দুই দেশকে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বের মানবিক অংশীদার হতে হবে। চীন ও জার্মানি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দুটি দেশ। দু’পক্ষের উচিত পারস্পরিক সভ্যতা বিনিময় জোরদার করা, মানবিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে সব দেশের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং অভিন্ন ভবিষ্যত গড়ে তোলা। আর চীন ও জার্মানির উচিত, জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় অবস্থান বজায় রাখা, জাতিসংঘের নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পুনরুজ্জীবিত করা এবং বহুপাক্ষিকতাবাদের রক্ষক, আন্তর্জাতিক আইনের অনুসারী, অবাধ বাণিজ্যের সমর্থক, এবং ঐক্য ও সহযোগিতার প্রবক্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করা। চীন ইউরোপের স্বনির্ভর উন্নয়নকে সমর্থন করে এবং আশা করে, ইউরোপও চীনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে; কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে; উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করবে; এবং চীন-ইউরোপ সম্পর্ককে আরও উন্নত করবে, যাতে বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখা যায়।

ad

পাঠকের মতামত