আন্তঃধর্মীয় ইফতার: প্রধান অতিথি অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটির উদ্যোগে আন্তঃধর্মীয় রাজকীয় ইফতার মাহফিলে অংশ নেন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভান দেয়ার বেল্লে। গত মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ঐতিহাসিক ক্যাসেল কোবেনজলে ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে মুসলিম ও সব ধর্মীয় নেতাদের সম্মানে এক রাজকীয় আন্তঃধর্মীয় (ইন্টার ফেইথ) ইফতারের আয়োজন করা হয়। অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী মুসলমানদের গরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির আন্তঃধর্মীয় (ইন্টার ফেইথ) ইফতার অনুষ্ঠানটি অলঙ্কৃত করেন প্রধান অতিথি অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভান দেয়ার বেল্লে। মুসলিম বিশ্বের ৪০টি দেশের রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রিয়ান কূটনীতিক, পার্লামেন্ট মেম্বার, অস্ট্রিয়ার প্রধান মুফতি মুস্তাফা মূল্লুগ্গলো, অস্ট্রিয়ান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান কার্ডিনাল ক্রিস্তফ শোনবর্ন, ইহুদি ধর্মের প্রধান রাবি শ্লোমো হফমাইস্টার, অন্যান্য ধর্মীয় প্রধান ব্যক্তি, অথরিটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য, ইসলামিক কমিউনিটির কেন্দ্রীয় নেতারাসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে এদিনা হুসোভিচ, হেড অব রিলিজিয়াস অথরিটি অফিসের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট তুর্কিশ বংশোদ্ভূত অমিত ভুরাল।
স্বাগত বক্তব্য ভুরাল প্রেসিডেন্টকে তার উপস্থিতির জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ও সেই সাথে সব উপস্থিতিকে ধন্যবাদ জানান। ভুরাল বলেন, ‘মি. ফেডারেল প্রেসিডেন্ট, আপনি প্রায়শই ঐক্যের ডাক দেন। আজ আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই : অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় নিজেকে এই নিশ্চিততার স্তম্ভ হিসেবে দেখে। আমরা আমাদের আশেপাশের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবামূলক সেবার মাধ্যমে এবং আমাদের মাতৃভূমির সামাজিক কাঠামোর মধ্যে অবদান রাখছি। একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রে মৌলিক অধিকার এবং নীতি যেমনÑ সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে। এই কারণেই, স্কুলের মেয়েদের জন্য স্কার্ফ নিষিদ্ধকরণ সংবিধানের পরিপন্থি এবং সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক পর্যালোচনা করা উচিত। তবুও এই সন্ধ্যায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আইনি বিতর্কের সীমানায় থেমে থাকা উচিত নয়। আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের শিশুদের জীবনের ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলছে। যুদ্ধ নিরীহ মানুষের উপর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ডেকে আনছে। সব শেষে ভুরাল উল্লেখ করেন, আমি আমাদের সবার কাছে কামনা করি যে, আমরা আজকের নির্ভরতার কিছুটা অংশ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহন করি, যাতে আমরা এমন এক সময়ে আশার দূত হয়ে উঠি, যখন এটির খুব জরুরি প্রয়োজন। আন্তঃধর্মীয় (ইন্টার ফেইথ) ইফতারে আরো উপস্থিত ছিলেন টার্কিশ, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের ১০টি ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যানগণ। বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান ও ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ও এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ। উল্লেখ্য, ইউরোপের মধ্যে অস্ট্রিয়া একটি ব্যতিক্রমধর্মী দেশ। যেখানে ১৯১২ সাল থেকে ইসলাম অস্ট্রিয়ায় সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি ধর্ম। অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্য কর্তৃক ১৪৬৩ সাল থেকে ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত শাসিত ও ১৯০৮ পর্যন্ত অটোমান অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ১৯০৮ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য (১৮৬৭ থেকে ১৯১৮) তাদের অধীনে সংযুক্ত করে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের এই অঞ্চলে ছয় লাখ মুসলমান বাস করত, যাদের ধর্মীয় অনুশীলনকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।











