ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠক শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন। ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টা) ট্রাম্পের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে বৈঠক শুরু হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্পের দাবি, তার প্রশাসনের প্রথম বছর ছিল ব্যতিক্রমী, কারণ এ সময়ে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটানো হয়েছে এবং আরও একটি সংঘাত সমাধানের পথে রয়েছে। গাজা সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে এটাকে তিনি ‘তুলনামূলকভাবে জটিল’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘বোর্ড অব পিস’ তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী উদ্যোগগুলোর একটি। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠক নিয়ে খোদ ফিলিস্তিনিদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে গাজা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের অর্থবহ অংশগ্রহণ আছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাদের থেকে দূরে, তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই। তাদের মতে, অতীতেও পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বহু আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর অনেক প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বিলম্বিত হয়েছে বা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফিলিস্তিনিরা চান না আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হোক। তাদের আশঙ্কা, ‘বোর্ড অব পিস’ যেন আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হয়ে না দাঁড়ায়, যা কেবল সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন ইস্যুর বাস্তব ও টেকসই সমাধান দিতে পারবে না।
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর উপকূলীয় অঞ্চলটির অর্ধেকরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরাইল, বাকিটা হামাস। ট্রাম্প তার শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের কথা বলে আসছেন। তবে হামাস তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমালোচকেরা মনে করেন, এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংস্থা দাঁড় করাতে চাইছেন।
জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে হাঙ্গেরি, ইসরাইল, বেলারুশ, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ দুই ডজন দেশ এর সদস্য হয়েছে।











