64184

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেসুত ওজিল

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল। তুরস্ক বংশোদ্ভুত ফুটবল তারকা আসার খবরটি আগে কাউকে জানানো হয়নি। হঠাৎ এই আগমনের খবর পেয়ে ফুটবলপ্রেমীরা জড়ো হন অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে।

আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানে ছেলে বিলাল এরদোয়ান। টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কোর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) সহায়তায় মেডিকেলের সংস্কার কাজ করা হয়। টিকার আয়োজনে তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।

ads

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন সমকালকে বলেন, হোটেল লা মেরিডিয়ানে টিকার সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় সভা ছিল। আমাদেরকে জানানো হয়েছিল, আমাদের জন্য একটি সারপ্রাইজ আছে। সেখানে গিয়ে আমরা ওজিলকে দেখতে পাই। তিনি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, সেখান থেকে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। তার অনুষ্ঠান শেষে ডাকসুর কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে লোক সমাগম বেশি হওয়ায় তিনি অনুষ্ঠান শেষে থাকেননি।

আরমান হোসেন আরও বলে, তিনি গতকাল রাতে এসেছেন। আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করে তিনি আবার ফেরত যাবেন। তাদের এই আসা আমাদের জন্য বেশ আনন্দের। তার সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে বিলাল এরদোয়ানও ছিলেন।

ads

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। এ সময় বাংলাদেশে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন, টিকা প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ এরেন, টিকা বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলী আরমান, ডাকসুর সভাপতি আবু সাদিক কায়েম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

বিলাল এরদোয়ান তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব, গবেষণা ও চিন্তাবিদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখবে। তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্কের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।

উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান তুরস্ক ও টিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অটোমান আমল থেকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সংস্কার প্রকল্প দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডাকসুর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম ঢাবি শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য টিকাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও জনগণের পর্যায়ের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

টিকার আর্থিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের আওতায় একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত