জেনেভায় শান্তি আলোচনা আগেই চুক্তিতে আসতে হবে ইউক্রেনকে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জেনেভায় যাওয়ার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ইউক্রেনকে খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় আসতে হবে।” রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযানের চতুর্থ বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার মুখে এই শান্তি উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে জেনেভার বৈঠকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এই প্রথম ইউরোপের মাটিতে সরাসরি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অভিযুক্ত করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কিয়েভ ইচ্ছে করেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে।
এদিকে, জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই ডনবাস বা ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। কিয়েভের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের জন্য মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়া হলেও ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ১৫ বছরের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
উল্লেখ্য যে, শান্তি আলোচনার এই ডামাডোলের মধ্যেই ইউক্রেনজুড়ে ৪০০ ড্রোন ও ২৯টি মিসাইল দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সবিহা একে রাশিয়ার ‘শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি চরম অবজ্ঞা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সর্বোচ্চ সুযোগ আদায়ের লক্ষ্যে কিয়েভের ওপর এই চাপ সৃষ্টি করছে, যা জেনেভা আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।











