সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী: গাজা যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত করবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, গাজা উপত্যকায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বি-রাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে কথা বলার সময় ফারহান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। শনিবার তিনি জানান, শান্তির প্রয়োজনেই সৌদি আরব এই ভূমিকা পালন করছে।
ফারহান বলেন, ‘গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গঠিত গাজা পিস বোর্ড এবং এর ২০ দফার কাঠামোটি প্রথমে সংঘাতের অবসান নিশ্চিত করবে। এরপর এটি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পুনর্গঠন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগাতে হবে। এটিই দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তির একমাত্র পথ।’
সিরিয়া প্রসঙ্গে ফারহান জানান, দেশটির প্রশাসন সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতি গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে। বহু বছরের গৃহযুদ্ধের পর দেশটি এখন একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সিরিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত দেশটির জনগণই নেতৃত্ব দেবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এতে সহায়কের ভূমিকা পালন করবে।
বিন ফারহান আরও জানান, এসডিএফ-এর (সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস) সঙ্গে এমন একটি চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা কুর্দিদের অধিকারকে সম্মান করে। সরকারের অব্যাহত অগ্রগতি আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সৌদি মন্ত্রী বলেন, ‘সংঘাত সাধারণত একে অপরকে উসকে দেয়।’ সুদানের সহিংসতা প্রতিবেশী দেশগুলোতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এর মূল কারণ সমাধানের এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানান, যা অশান্তি জিইয়ে রাখে। বিশেষ করে সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল পথের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিন ফারহান জানান, সুদানে সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষের অবসান পুরো অঞ্চলের জন্য আশার উৎস হতে পারে।











