সংসদ নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক: ইইউ পর্যবেক্ষক দল
নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম)-এর প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের নবায়নকে ত্বরান্বিত করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মিশনের প্রাথমিক বিবৃতি উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইজাবস বলেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁর মতে, নির্বাচনটি প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক ছিল এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হয়েছে। নির্বাচনের আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এতে অংশীজনদের আস্থা বজায় থেকেছে এবং নির্বাচনের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন টমাশ জদেখোভস্কি (এমইপি), মিশনের প্রাথমিক বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রবিবার সকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনা কার্যক্রম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের উপস্থিতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা জোরদার করেছে। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফল সংক্রান্ত নিয়মিত তথ্য সরবরাহ ও গণমাধ্যমে প্রচার জনআস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন অংশগ্রহণ সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি। প্রধান পর্যবেক্ষক আরও বলেন, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্ট বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের আশঙ্কাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ইতিবাচক পদক্ষেপের অভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এখনও পর্যাপ্ত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত।
ইভার্স ইজাবস বলেন, এখন সময় এসেছে পুরোনো ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ চর্চা পরিত্যাগ করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন পথরেখা নির্ধারণের।
প্রতিনিধিদলের প্রধান টমাশ জদেখোভস্কি বলেন, বাংলাদেশ একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আমরা নতুন সংসদ ও সরকারকে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুমোদিত সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।
উল্লেখ্য, ইইউ ইওএম ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও অংশ নেন।











