63843

জাপানের আকস্মিক নির্বাচনে তাকাইচির দলের বড় জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দল আকস্মিক সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এ জয়ে দেশটির সংসদের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিশ্চিত করেছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।

ads

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ঘোষণা করা ফলাফল অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এলডিপি ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে ৩১৬টি আসনে জয় পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় যা অনেক বেশি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ফলাফলে দলীয় জয়ের আভাস পাওয়ার পর তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, তার সরকার দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে।

ads

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজস্বনীতিকে টেকসই করব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ চালিয়ে যাব।’

গত সাত দশকের অধিকাংশ সময় জাপান শাসন করা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপে ছিল। দলের রাজনৈতিক অবস্থান ঘুরিয়ে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় এই আকস্মিক নির্বাচন ডাকেন তাকাইচি।

তবে নির্বাচনী প্রচারণায় খাদ্যপণ্যে আট শতাংশ বিক্রয় কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণভার সবচেয়ে বেশি। ফলে এই কর ছাড়ের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে—প্রশ্ন উঠেছে। তা সত্ত্বেও, প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোট দিতে বের হন। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু ভোটকেন্দ্র আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে হয়।

এদিকে ভোটার কাজুশিগে চো(৫৪) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি দেশকে একসঙ্গে টেনে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।’

আরেক ভোটার মাইনেকো মোরি(৭৪) বলেন, তাকাইচির কর ছাড়ের পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাতে পারে।

হোসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ক্রেইগ মার্ক আল জাজিরাকে বলেন, এই ফলাফল তাকাইচিকে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করে আইন পাসের শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘বাজেট হোক বা প্রতিরক্ষা ব্যয়—তিনি চাইলে যেকোনো আইন পাশ করাতে পারবেন।’

এদিকে, জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী লবিগোষ্ঠী কেইদানরেনের প্রধান নির্বাচনের ফলাফলকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

ad

পাঠকের মতামত