63882

ইসলামী ফ্রন্টের ২৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক: গণমানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ, সর্বক্ষেত্রে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। দলটির নির্বাচনি প্রতীক মোমবাতি।

সোমবার মতিঝিলস্থ দলীয় কার্যালয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আব্দুস সামাদ।

ads

ইসলামী ফ্রন্টের ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সর্বজনীন কল্যাণ, সম্প্রীতি, ন্যায়-নীতিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের দৃঢ় প্রত্যয়।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহানসচিব বলেন, ‘‘আপনার ভোটে যদি কোনো সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অর্থ আত্মসাৎকারী, মাদকব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু ও লুটেরার হাতে ক্ষমতা অর্পিত হয়, তার কৃতকর্মের দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। কারো কথায় প্রলোভিত না হয়ে, দলীয় প্রার্থী বিবেচনা না করে, কোনো পেশিশক্তির কাছে মাথানত না করে নিজের অনুসন্ধানী বিবেককে একটিবার প্রশ্ন করুন- আপনার ভোট কাকে দেবেন? যারা ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য, দলীয় ক্ষমতা কায়েমের জন্য রাজনীতি করে তাদের? নাকি যারা জনতার নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করে তাদের? এই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার হাতে।’’

ads

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে বাংলাদেশকে সর্বজনীন, সম্প্রীতি ও নৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভোটারদের মূল্যবান রায় তিনি প্রত্যাশা করেন। এবং উপস্থাপিত ২৩ দফা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চান।

ইসলামী ফ্রন্ট ঘোষিত ২৩ দফা হ‌লো :

১। দ্রবমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ও সর্বসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পদক্ষেপ ২। বাসস্থান ৩। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ৪। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারবর্গের প্রতি অঙ্গীকার ৫। স্বাস্থ্য সেবা ৬। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী ৭। নিরাপদ সড়ক ৮। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ৯। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ১০। নারী উন্নয়ন ১১। নৈতিকতাসম্পন্ন দেশপ্রেমিক নাগরিক সৃষ্টি এবং মব সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও মাদক নির্মূলে পদক্ষেপ ১২। শিক্ষিত বেকার ও তরুণদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ ১৩। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের সুরক্ষা, কল্যাণ ও উন্নয়ন ১৪। পররাষ্ট্র নীতি ১৫। প্রতিরক্ষা বিষয়ে আমাদের পদক্ষেপ ১৬। পর্যটন শিল্প ১৭। সুন্নী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ পদক্ষেপ ১৮। কৃষি উন্নয়ন ১৯। জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সংঘঠিত সকল হত্যাকান্ড, দেড় শতাধিক মাজার খানকায় হামলার নির্যাতনসহ বিচার বহির্ভূত সব হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। ২০। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাঠানো রেমিটেন্সের বিপরিতে বিনিয়োগ ও পেনশন সুবিধা প্রদান করা হবে।

২১। বাংলাদেশে মুসলমানরা বিভিন্ন মানহাজের অনুসারী। তাদের মধ্যে সুফিবাদী অর্থাৎ সুন্নীজনতা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সে অনুপাতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও সরকারি মসজিদে লোকবল নিয়োগ প্রদান করা। সরকারিভাবে হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিশেষত: পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের ন্যায় বিমান ভাড়া কমানো। ২২। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১’ এর কারণে পাহাড়ী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থায়ীভাবে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। এ আইনের ফলে বাঙালিরা নিজ ভূমিতে উদ্বাস্ত হয়েছে। এ আইনটি বাতিলপূর্বক পাহাড়ী-বাঙালি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় একটি কমিশন গঠন করে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফেরানো হবে।

২৩। পে-স্কেল বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণসহ মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিন বছর অন্তর হালনাগাদ করা হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়ে চলেছে, সেভাবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পায়নি। শ্রমিক অসন্তোষ দূর করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেতন-ভাতাসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ইসলামী শ্রমনীতি এক্ষেত্রে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মাহমুদ ভূইয়া মানিক, সাংগঠনিক সচিব অ্যাডভোকেট মো. ইসলাম উদ্দিন দুলাল, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম কাজল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, হাফেজ মোহাম্মাদ শাহজালাল, শাফায়াত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট নিয়াজুর রহমান লিংকন প্রমুখ।

ad

পাঠকের মতামত