শুক্রবার বিকালে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান
নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী রূপরেখা বা ইশতেহার দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এটি পরিচালনা করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারই প্রথম বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার। এর আগে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন এবং ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইশতেহার পাঠ করেছিলেন। অন্যদিকে, বিগত দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বয়কট করেছিল।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন ইশতেহারের মূল দর্শন সম্পর্কে আলোকপাত করে জানান যে, এটি মূলত জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও তৃণমূলের ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল, তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। আমাদের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আমরা কাজ করেছি। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়েছি। সেই জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু সংযোজন বিয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্তনের আলোকে যুগের চাহিদা মিলিয়ে জনমানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আসছে।’ তিনি আরও জানান যে, এই ইশতেহারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন মনে করেন, তারেক রহমানের সূচিত এই পরিকল্পনাগুলো মূলত জনগণের স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সুরক্ষার কবজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, হি হ্যাজ এ প্ল্যান। এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের এমপাওয়ারমেন্টের জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বাধীনতা এবং স্বনির্ভরতার জন্য, এই প্রত্যেকটা প্ল্যান মানুষের স্বনির্ভরতার পাশাপাশি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য।’ তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে। আমাদের ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে সেই জনগণের ক্ষমতায়ন, জনগণের রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন থাকবে। যেখানে মানুষ তার পরিবার নিয়ে এখন থেকে অনেকটা ভালো থাকবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট সুবিস্তৃত যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিএনপির এই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।











