63521

বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার নিহত, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে একটি চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সিঙ্গুর যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই দুর্ঘটনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। অজিত পাওয়ার পুরোনো দলে অর্থাৎ শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির সঙ্গে ফের একত্রিত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। এই অবস্থায় এমন একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু দেশের রাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

ads

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই দেশে এখন সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি রাজনৈতিক নেতাদের জীবনও নিরাপদ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে কয়েক দিন আগেই অন্য দলের এক নেতা দাবি করেছিলেন অজিত পাওয়ার বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করতে চলেছেন। তার পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটল। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের অধীনেই হওয়া উচিত। অন্য সব তদন্তকারী সংস্থার উপর মানুষের আস্থা নেই। সব এজেন্সিকেই কিনে নেওয়া হচ্ছে । দেশের মানুষ এখন কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্টের উপরই ভরসা রাখে।

ads

বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রথমেই এক্স হ্যান্ডেলে শোকবার্তা প্রকাশ করেন মমতা।

সেখানে তিনি লিখেন, অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং হতবাক। বারামতীতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় যেভাবে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং তার সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে তাতে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষতি অনুভব করছেন।

এই দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অজিত পাওয়ার ছিলেন রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শরদ পাওয়ার এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের জনগণের প্রতিও তিনি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এই ঘটনার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ এই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। যদিও সরকারি সূত্রে একে নিছক দুর্ঘটনা বলেই দাবি করা হয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তদন্তের দাবির পর কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও এই ইস্যু নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় কোনও অঘটন উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করে।

ad

পাঠকের মতামত