কুমিল্লায় সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত
নিউজ ডেস্ক: সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (CCN University of Science & Technology) দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট ৩৫২ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কর্তৃক মনোনীত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি যখন প্রথম চীন নামের রাষ্ট্রে যাই, তখন দেশটি দেখে মনে হয়েছিল তারা কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না। কিন্তু এবার চীনে গিয়ে মনে হয়েছে, বিশ্বের সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যেন ওই দেশেই রয়েছে।’
তিনি চীনের একটি আধুনিক বন্দর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘সেই বন্দরটি মাত্র পাঁচজন তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে তারা পুরো বন্দর পরিচালনা করছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও প্রযুক্তিতে আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে, তাহলেই দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে জাতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হবে না, সেই জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। উন্নত দেশগুলো এআই নিয়ে গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ করছে। তোমরা যারা আজ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছ, বাংলাদেশকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে তোমাদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণ সমাজ অত্যন্ত সচেতন, মেধাবী ও আধুনিক চিন্তাধারার অধিকারী। রাষ্ট্র টিকে থাকার নির্ভরশীলতার অন্যতম উৎস তোমরাই। জীবনে দ্রুত সফলতা পেতে চাওয়াটা স্বাভাবিক; কিন্তু সফলতা আসে ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে নিজের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ক্রমাগত কাজ করলে সফলতার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।’
সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (APUB)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং নৌপরিবহন সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপদেষ্টা মো. তাজুল ইসলাম এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. মো. শাহজাহান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতির নিকট স্নাতক পর্যায়ের ৩২৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২৬ জন—মোট ৩৫২ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট ঘোষণার জন্য অনুমতি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাসের।
পরে সভাপতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির পক্ষে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েট ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচ ও বিভাগ থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পদক বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর। ওই সমাবর্তনে ৫৪৬ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নিয়েছিলেন।










