50981

বরুশিয়াকে হারিয়ে রেকর্ড ১৫তম চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালের মঞ্চে রিয়াল মাদ্রিদ অভিজ্ঞতা আর অর্জনে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ।তবে প্রথমার্ধে যেন তার ছাপ দেখা গেলনা খুব একটা।উল্টো বুরুশিয়ার গোছানো সব আক্রমণে চাপেই ছিল কার্লো আনচেলত্তির দল।ফিনিশিং দুর্বলতায় সেই আধিপত্যের সুবিধা নিতে পারেনি বুরুশিয়া।দ্বিতীয়ার্ধে চেনা রুপে ফেরে রিয়াল,নেয় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।পেয়ে যায় গোলের দেখাও।আর তাতে ভাঙে বুরুশিয়ার দ্বিতীয়া শিরোপার স্বপ্ন,দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা হয় আরও দীর্ঘতর।

ওয়েম্বলিতে শনিবার চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব বুরুশিয়াকে ডর্টমুন্ডকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল। লস ব্লাংকোদের দুই গোলদাতা দানি কারভাহাল ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।দুইটি গোলই এসেছে বিরতির পর।

ads

আর চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজেদের আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল রিয়াল।স্প্যানিশ জায়ান্টদের এটি ছিল ১৫ তম বারের মতো লীগ শিরোপা জয়। ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এর থেকে বেশি জেতার রেকর্ড নেই আর কোন ক্লাবের।

পাঁচ মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল একের অধিক গোল দেখল।এই ফাইনালের আগে সর্বশেষ চারটি ফাইনালেই স্কোরলাইন ছিল ১-০।

ads

২০১৩ সালে ফাইনালে হারের যন্ত্রণা ভুলতে নামা বুরুশিয়ার শুরটা ছিল আশা জাগানিয়া।বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে দারুণ আধিপত্য দেখায় এডিন তেরজিচের দল।১৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বুরুশিয়া। তবে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি নষ্ট করেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জুলিয়ান ব্রান্ডট।৭ মিনিট পর ম্যাট হামেলসের নিখুঁত এক পাসে ফের সুযোগ পায় ডর্টমুন্ড।অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে করিম আদেয়েমি থিবো কর্তোয়াকে একা পেয়েও পারেনি জালের বল জড়াতে।রিয়াল গোলরক্ষককে কাটাতে গিয়ে হারান বলের নিয়ন্ত্রণ।

তবে সফরকারী সবচেয় বড় দুভার্গ্যের শিকার হয় এর মিনিট দুয়েক পর। ২৩ তম মিনিটে ফুলক্রুগের বাঁ পায়ের শট থিবো কর্তোয়াকে ফাঁকি দিলেও ফিরে পোস্টে লেগে।চার মিনিট পর আদেয়মির জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন কর্তোয়া।৪১তম মিনিট এই বেলজিয়াম গোলরক্ষকে রক্ষা পায় রিয়াল।

প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য খুব একটা সুযোগ তৈরী করতে পারেনি রিয়াল।গোলের জন্য কোনোভাবে দুটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি আনচেলেত্তির দল; বিপরীতে গোলের জন্য তাদের আট শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে বরুশিয়া।তবে পায়নি গোলের দেখা।

বিরতি পর অবশ্য পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট।প্রথমার্ধে চাপ সামলে রিয়াল আরও একবার চ্যাম্পিয়নস লীগে বের করে আনে নিজেদের সেরাটা।৪৯ তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত লস ব্লাংকোরা। এই ম্যাচ দিয়ে রিয়ালকে বিদায় বলে দেওয়া রিয়াল কিংবদন্তী টনি ক্রুসের ফ্রি কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকান ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক কোবেল।এরপরেও বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করেও সফলতার দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল।

অন্যদিকে বুরুশিয়ার আক্রমণও ছিলন ধার।গোল পেতে মরিয়া তেরজিচ ৭২ মিনিটে আদেয়েমিকে তুলে ডর্টমুন্ড কিংবদন্তী মার্কো রয়েসকে নামান।তবে এরপর উল্টো গোল হজম করে দলটি।৭৪ মিনিটে ক্রুসের কর্নার থেকে হেডে বুরুশিয়ার জালে বল পাঠান কারভাহাল।

লিড নেওয়ার পর রিয়াল ছিল আরও বেশি উজ্জবীত।ব্যবধান বাড়াতে করে যায় একের পর এক আক্রমণ। অন্যদিকে চাপে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বুরুশিয়া।আর তাতে গোলরক্ষকের বীরত্বের পরও নয় মিনিট পর হজম করে বসে দ্বিতীয় গোল।

ফাইনালে ফল নির্ধারণ করে দেয়া যেই গোলের শুরুটা হয়েছিল নিজেদের অর্ধে ম্যাটসেনের ভুল পাস ধরে।বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বেলিংহ্যামের পাস বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে।নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দিগুণ করতে কোন ভুল করেননি এই রিয়াল মিডফিল্ডার।আর তাতে নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের ১৫ তম ইউরোপ সেরার মুকুটও।

ফলে ক্লাব ফুটবলকে বিদায় বলে দেওয়া রিয়াল মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের শেষটা হলো শিরোপা জিতেই।দলের এই কিংবদন্তীকে বিদায়বেলায় অভিবাদন জানাতে ভুল করেননি রিয়াল সমর্থকরা।৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় ভেসেছেন রিয়াল সমর্থকদের করতালিতে।

ad

পাঠকের মতামত