রাশিয়ার সদস্যপদ নিয়ে জি-২০ জোটে বিভক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০১৪ সালে রাশিয়ার যখন শেষ বার ইউক্রেনে আক্রমণ করেছিল তখন ক্ষুব্ধ বিশ্বনেতারা শিল্পোন্নত আটটি দেশের জোট থেকে তাদের বের করে দিয়েছিলেন। ওই জোটটি পরে নিজেদের জি-৭ হিসেবে দ্রুত সামনে চলে আসে।
আট বছর আগের জি-৭ এখনও সাত দেশের জোট হিসেবেই আছে। যে জোটের নেতারা প্রতি বছর বৈঠকে বসেন। বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
এবার যখন ওয়াশিংটনে বসন্তকালীন বৈঠকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, জি-৭ ও বড় গ্রুপ জি-২০ এর কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন তখন স্পষ্ট হয়েছে যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান আক্রমণের পরও জি-২০ জোটে দেশটির সদস্যপদ অপরিবর্তিত থাকছে।
পশ্চিমা দেশগুলো এই আক্রমণের জেরে রাশিয়াকে একঘরে করতে চাইলেও মস্কো জি-২০ ও জোট সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে সদস্য হিসেবে বহাল থাকছে। অবশ্য সদস্য দেশগুলো একমত হলে তা স্থগিত হতে পারে। কিন্তু দৃশ্যত এমন সম্ভাবনা খুব কম। কারণ চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা স্পষ্ট করেছে তারা রাশিয়ার সদস্যপদ বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেবে।
রাশিয়ার এই চাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে আয়োজনকে ব্যহত করা এবং জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ বিভক্তি তৈরি। এই বিভক্তির কিছু নমুনা গত সপ্তাহে দেখা গেছে। যখন ইউক্রেনে আক্রমণে নিন্দা জানাতে আইএমএফ-এর গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা কমিটির একটি প্রজ্ঞাপন আটকে দিয়েছে রাশিয়া।
আইএমএফ-এ রাশিয়ার সদস্যপদ ইস্যুতে বিশ্বের কয়েকজন অর্থনৈতিক নেতা বৈঠক প্রত্যাখ্যান, অনুপস্থিত বা প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছেন।
আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জিওর্গিয়েভাকে জি-২০ থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ার প্রশ্নের জবাবে বরখাস্তের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক অমীমাংসিত ইস্যু মোকাবিলা করতে হচ্ছে’। বিশ্বের বড় সমস্যা সমাধানের জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের পর রাশিয়া ও দেশটির মিত্র বেলারুশে সব প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ায় কোনও নতুন বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আইএমএফ বলেছে, কয়েক দশক ধরে রাশিয়াকে তারা কোনও অর্থ ঋণ দেয়নি এবং তাদের কোনও সহযোগিতা প্রকল্প নেই।
আইএমএফ বৈঠকে যে বিভাজন উঠে এসেছে নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনেও তা দেখা দেখা যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জোট থেকে রাশিয়াকে বের করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জানায়নি যদি রাশিয়া অংশগ্রহণ করে তাহলে বাইডেন সম্মেলন বয়কট করবেন কিনা।
জি-২০ জোটের দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ব্রিটেন, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। স্পেন স্থায়ী অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত।
রাশিয়ার সদস্যপদের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। কিন্তু চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়াকে বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, সংকটপূর্ণ এই সময়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে যুক্ত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকনোমিকস সেন্টারের সিনিয়র ডিরেক্টর অ্যাডাম লিপস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সদস্যপদ বাতিলের আহ্বানের মধ্য দিয়ে যে বিভক্তি তৈরি হচ্ছে এতে বেশি সুবিধা পাবে রাশিয়া।
সূত্র: এপি











