ফিলিস্তিনে হামলার প্রতিবাদে আঞ্জু: রহমানিয়া মইনীয়া মাইজ ভান্ডারীয়ার মানববন্ধন
মাইনুল হক: আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজ ভান্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের উদ্যোগে নিরীহ ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরায়েলিদের বর্বর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৭ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়৷
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন “পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ” এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট, হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (মাঃজিঃআঃ)৷
বক্তব্য রাখেন শাহাজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন, শাহাজাদা মাসুক-এ-মইনুদ্দীন৷
সভাপতির বক্তব্যে পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ এর প্রেসিডেন্ট, হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (মাঃজিঃআঃ) বলেন, আজকে করোনা ঝুঁকির মধ্যেও এই রাজপথে আমরা দাঁড়িয়েছি৷ পৃথিবীর জমিনে মানব সভ্যতার প্রাচীনতম স্থান, যেখান থেকে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল৷ এই ফিলিস্তিনের জমিন আজকে রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে৷ অসহায় নারী শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে৷
তিনি বলেন, বিশ্বের জাতিসমূহের সংগঠন বা সংস্থা রয়েছে, তাদের কোন আওয়াজ আমরা শুনতে পাচ্ছি না৷ তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে৷
“পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ” এর প্রেসিডেন্ট বলেন, মসজিদুল আকসাকে আঘাত করা মানে ১৫০ কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত করা৷ মসজিদুল আকসাকে আঘাত করা মানে সমস্ত ধর্মের অনুভূতিকে আঘাত করা৷ এটা শুধু মুসলমানদের জন্য পবিত্র জায়গা নয়৷ এ জায়গাটাকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা ও সম্মান করে৷
তিনি বলেন, আজকে আমরা বাংলাদেশের জমিন থেকে কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন৷ ফিলিস্তিনের জনগণের সাথে সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন৷ আমরা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এ বিষয়ে একমত, সবাই ফিলিস্তানের পাশে রয়েছি৷ যতদিন এ সমস্যার সমাধান না হয় ততদিন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের পাশে আছি৷
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু থেকেই ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে ছিলেন এবং সে শিক্ষাই উনি দিয়ে গেছেন৷ কারণ বাঙালিরা মজলুমের পাশে সবসময় ছিল এবং থাকবে৷ আমরা জানি আমাদের দেশেও এভাবে ১৯৭১ সালে জালিমরা আমাদেরকে শাসন করেছিল এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছিল৷
“পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ” এর প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনের অপরাধ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরকে জায়গা দিয়েছে, যেভাবে আমরা রোহিঙ্গাদেরকে জায়গা দিয়েছি৷ আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদেরকে আমাদের প্রাণ ভূমিতে আশ্রয় দিয়েছি৷ আমরা বিভিন্নভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করছি, আমাদের সরকার সহযোগিতা করছে৷ ফিলিস্তিনি সরকারও মানবিক কারণে যাদের বাড়িঘর করার জায়গা ছিল না তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল এবং জায়গা দিয়েছে৷ ইসরাইল রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে মুসলমানদের অবদানের কারণে, মুসলমানরা জায়গা দিয়েছে বলেই ইসরাইল রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে৷
তিনি বলেন, বিশ্ব মন্ডলরা ১৯৪৮ সালে চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন করে দেয়৷ এরপর থেকেই এই ইসরাইল রাষ্ট্রের শাসকরা ফিলিস্তিনিদের উপর নির্যাতন এবং নিপিড়ন করেই যাচ্ছে৷
“পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ” এর প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা চাই শুধু ১৫০ একর জায়গা৷ যেটা বাইতুল মুকাদ্দাসের এরিয়া, যে জায়গাটা পবিত্র জায়গা, বিভিন্ন নবী-রাসুলদের আবাসস্থল, বুজড়া বা ইবাদতের জায়গা৷ সে জায়গাটাকে যাতে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেয়৷ এ ১৫০ একর জায়গা নিয়ে তারা বিরোধ সৃষ্টি করছে৷ এ বিষয়ে জাতিসংঘকে আহবান করব পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যুদ্ধ হোক না কেন তারা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসে এবং নিয়ন্ত্রণে নেয়৷ আজকে ফিলিস্তিনের জমিনে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না৷ আজকে ফিলিস্তানের হাসপাতালগুলো নিরাপদ নাই, রাস্তাঘাটগুলো নিরাপদ নাই, মানুষের আবাসস্থল গুলো নিরাপদ নেই আজকের বিশ্ব মানবতা কোথায়? আমরা পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ এবং আঞ্জুমানে মইনীয়া যুব ফোরাম থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহবান জানাই, তারা এ বিষয়ে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়৷
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা রয়েছে৷ উনাকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই মজলুম ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করে দাঁড়ানোর জন্য এবং এ বিষয়ে ওআইসি এবং জাতিসংঘে প্রস্তাব পেশ করার জন্য৷ এ বিষয়ে আলোচনার দরকার আছে৷ আমরা এবং দেশের জনগণ সরকারের পাশে আছি৷
“পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজ” এর প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিম বিশ্ব যদি এক হয় এবং ঐক্যের মধ্যে চলে আসে, ফিলিস্তিনের রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও প্রস্তুত রয়েছে৷ আমরা নিরপরাধ মজলুমদের পাশে ছিলাম ইনশাআল্লাহ আমরা থাকবো৷ কোন জালেমের রক্তচক্ষুকে ভয় করিনা এবং আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে ভয় করিনা৷
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া ওলামা মাশায়েখ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, মুফতি বাকি বিল্লাহ্ আল আযহারি, আনজুমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট জালালুদ্দিন মাইজভাণ্ডারী, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন ভুইয়া চাঁদপুরী, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক শাহ্্ মোহাম্মদ ইব্রাহীম মিয়া, মাওলানা শেখ সাদি আবদুল্লাহ্ সাদকপুরী, মইনীয়া যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, শাহ্ মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ঢালি কামরুজ্জামান হারুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী, গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ সিদ্দিকী, গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মো: সোহাগ শেখ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন শ্যামল, কুমিল্লা জেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা মহানগর সভাপতি হাবিবুর রহমান পায়েল, মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি জামাল খান, নারায়নগঞ্জ জেলা সভাপতি খলিফা মাসুম প্রমুখ।










