9015

খাদ্য ও পুষ্টি: ডা. মুজিবুর রহমান

চেতনায় একাত্তর ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের ঘন ঘন চরিত্র বদলের ফলে প্রতিষেধক ও ওষুধ দুই-ই এই সময় অধরা।বিশেষ করে বাড়ির শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সে তার মরণকামড় বসানো শুরু করেছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানো ও মাস্ক সাবান ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করে অসুখের সঙ্গে লড়াই করা ছাড়া এই মুহূর্তে কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা,অনিদ্রা,মানসিক চাপ,অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধুমপান সব কিছুই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার অন্যতম কারণ।

যথাযথ পুষ্টি না পেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর তার প্রভাব পড়ে ।সুতরাং হালকা শরীরচর্চার পাশাপাশি খাবারেও রাখতে হবে এমন কিছু খাবার যা শরীরকে মজবুত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ করবে। সাধারন ফ্লু,করোনা,সব রকম অসুখ থেকে বাঁচতে এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প কিছু নেই।

ads

১. তেতো খাবার: যে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিদিন খাবারের প্লেটে রাখুন তেতো খাবার।উচ্ছে নয়তো করলা। এসবের এন্টিভাইরাল উপাদান শরীরকে মজবুত রাখে ও এই সময় বাতাসে উড়ে বেড়ানো রোগ জীবানুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

২. পর্যাপ্ত প্রোটিন :শরীর সুগঠিত করতে খাদ্যে প্রোটিন চাই ভরপুর। খাবার প্লেটে উদ্ভিজ্জ বা প্রাণীজ যেকোনো রকমের প্রোটিন রাখুন রোজ ।মাছ, মাংস, মসুর ডাল, ডিম এসব থেকে পাওয়া পুষ্টিগুণ শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করবে।

ads

৩. লবঙ্গ, দারুচিনি, কাঁচা হলুদ: ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার মতো প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে রান্নায় ব্যবহার করতে হবে বিভিন্ন প্রকার মশলাপাতি। তার মধ্যে লবঙ্গ দারুচিনি কাঁচা হলুদও রয়েছে। রান্নায় যোগ করুণ লবঙ্গ ও দারচিনি। এদের এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। কাঁচা হলুদের এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান শরীরকে অনেক রোগের হাত থেকে বাঁচায়। টুকরো করে কেটে চিবিয়ে খান, নয়তো কাঁচা হলুদ বেটে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খান প্রতিদিন। বিশেষ করে স্লেস্মাজনিত অসুখের বিরুদ্ধে বড় ঢাল হয়ে উঠতে পারে এই কাঁচা হলুদ।

৪. রসুন: সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন, এক অপূর্ব দাওয়াই। আর এতেই নাকি ভ্যানিস অর্ধেক রোগবালাইয়ের শংকা। প্রাকৃতিক ভাবে এন্টিবায়োটিক ও এন্টিঅক্সিডেন্টে ঠাসা রসুনের অনেক কার্যকরী দিক রয়েছে। খালি পেটে এটি খেলে এর রস সহজে ডিটক্সিফাই করতে পারে বেশি পরিমাণে। এন্টিঅক্সিডেন্ট এ ঠাসা রসুন রক্তকে পরিশুদ্ধ করে। কিছু ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ যেমন ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ইত্যাদি প্রতিরোধই রসুনের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। স্লেস্মাজনিত অসুখ রুখতে কাজে আসা রসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধের দেয়ালকে মজবুত করে।তাই এই সময় রান্নাতে ব্যবহার করুন পর্যাপ্ত রসুন।

৫. সবুজ শাকসব্জির ও ফল :ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে শরীর স্বাভাবিক শক্তির যোগান দিতে ও ভিটামিন সি খনিজের উপাদানে যাতে ঘাটতি না পড়ে সেসবের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রতিদিন অন্তত:১০০ গ্রাম ওজনের যে কোন ফল খাবেন। সঙ্গে রাখুন প্রচুর সবুজ শাক সব্জী৷

৬. টক দই: টক দইয়ের ফারমেন্টেড এনজাইম খাবার হজমের জন্য দারুণ উপযোগী। টক দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান লিভারকে যেমন সুস্থ রাখে তেমনই এর ফলে কোলেস্টরোল ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকেই দুধ খেতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন দইয়ের উপর ।দুধের তুলনায় দ্ই সহজপাচ্য। শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে দইয়ের জবাব নেই। শরীরের টক্সিন যত সরবে সুস্থতার পথে তত সহজেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

ad

পাঠকের মতামত